লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

চীনের হ্যাঙ্গর সাবমেরিন ও প্রযুক্তি হস্তান্তরেরে পাকিস্তানের নৌ-শক্তি বৃদ্ধি, উদ্বেগে ভারত

প্রকাশিত: 20 নভেম্বর 2025

29 Views

The Civilians News

চীনের হ্যাঙ্গর সাবমেরিন ও প্রযুক্তি হস্তান্তরেরে পাকিস্তানের নৌ-শক্তি বৃদ্ধি, উদ্বেগে ভারত

দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।

আরব সাগরের গভীরে যখন চীনের অত্যাধুনিক হ্যাঙ্গর-ক্লাস সাবমেরিনগুলো নিসঃশব্দ শিকারির মতো ঘুরে বেড়াবে, তখন ভারতের নৌবাহিনীকে নিশ্চই নতুন করে ভাবতে হবে। পাকিস্তান নৌবাহিনীর সর্বোচ্চ ব্যাক্তি নৌপ্রধান এডমিরাল নাভিদ আশরাফ চীনের স্টেট মিডিয়া গ্লোবাল টাইমসকে বললেন, আগামী ২০২৬ সালে প্রথম চীনা-নকশার হ্যাঙ্গর-ক্লাস সাবমেরিন সার্ভিসে যোগ দেবে। এই খবরটা শুধু ইসলামাবাদের জয়গান নয়, দিল্লির জন্য একটা নীরব সতর্কতা।

২০১৫ সালের চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের পাকিস্তান সফরে সই হয়েছে এই ৫ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি। চীনে তৈরি হচ্ছে প্রথম চারটা, বাকি চারটা করাচির বন্দরেই তৈরী হবে প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে। ২০২৮ সালের মধ্যে পুরো ফ্লিট যোগ দেবে সার্ভিসে।

এডমিরাল আশরাফ বললেন, “প্রোগ্রাম দারুণভাবে এগোচ্ছে। এই নীরব শিকারিরা উত্তর আরব সাগর আর ভারত মহাসাগরে পাকিস্তানের টহল সক্ষমতা বাড়াবে।” চীনের টাইপ ০৩৯বি ডিজাইনের এই ডিজেল-ইলেকট্রিক সাবমেরিনগুলোতে এয়ার-ইন্ডিপেন্ডেন্ট প্রপালশন (এআইপি), অ্যাডভান্সড সনার আর ৫৩৩ মিমি টর্পেডো টিউব। সম্ভবত বাবর-৩ ক্রুজ মিসাইলও লোড করা যাবে, যা পাকিস্তানের নিউক্লিয়ার হামলার দ্বিতীয় উৎস হতে পারে।

চীনের অত্যাধুনিক হ্যাঙ্গর ক্লাস সাবমেরিনকে খুবই বিপজ্জনক বলে ধরা হয় কয়েকটি কারণে। পানির নিচে দীর্ঘসময় লুকিয়ে থাকতে পারে, AIP সিস্টেমের কারণে এটি ১৫ থেকে ২০ দিন পানির নিচে অনায়েসেই থাকতে পারে এবং নীরবে টহল দিতে পারে। তাই শত্রুপক্ষের রাডারে খুব সহজে ধরা পরে না।

এটি স্টেলথ বা নিজেকে লুকিয়ে রাখার ডিজাইনে তৈরি। এর শব্দ খুব কম হয়, যা আধুনিক সনর (পানির নিচে সনাক্ত করন যন্ত্র) দিয়েও শনাক্ত করা বেশ কঠিন করে তোলে।

এই নিশশব্দ শিকারী ৫৩৩ মিমি টর্পেডো টিউব থেকে ভারী টর্পেডো, অ্যান্টিশিপ মিসাইল এবং নিউক্লিয়ার ওয়ারহেড সম্পন্ন বাবার – ৩ ক্রুজ মিসাইল বহন করতে ও ছুড়তে সক্ষম। এই সাবমেরিন পানি থেকে পানিতে এমনকি ভূমিতেও আঘাত করার সক্ষমতা রাখে, এর ফলে শত্রুর যুদ্ধজাহাজ, সাবমেরিন এবং স্থলভাগের লক্ষ্যও এটি থেকে নিরাপদ নয়।

আরব সাগর বা ভারত মহাসাগরে এটি শত্রুর সাপ্লাই রুট, যুদ্ধজাহাজ এবং ক্যারিয়ার গ্রুপকে লক্ষ্য করে আক্রমণ করতে সক্ষম। তাই এটি এই অঞ্চলের ক্ষমতার কেন্দ্র দারুন প্রভাব বিস্তার করবে বলে ধারণা করা হয়।

এটি নিউক্লিয়ার সাবমেরিনের মতো দামী নয়, কিন্তু কার্যক্ষমতায় বেশ শক্তিশালী। এতে পাকিস্তান সস্তায় শক্তিশালী আন্ডারসী প্রতিরক্ষা তৈরি করতে পারছে। কারণ এই সাবমেরিন কোথায় আছে তা বোঝা কঠিন, আর কখন কোন দিকে আঘাত করবে তা পূর্বাভাস পাওয়াও কঠিন। অদৃশ্য থেকে আঘাত হানার ক্ষমতাই এটিকে ভয়ংকর করে তোলে।

এই সাবমেরিনগুলো একটি “নিয়মিত (dedicated)” নিউক্লিয়ার স্ট্রাটেজিক প্ল্যাটফর্ম নয়, অর্থাৎ পুরো সময় তারা পারমানবিক অস্ত্র বহন করতে না পারলেও প্রয়োজনের সময়ে তারা এটি ব্যবহার করতে পারবে অন্য নিউক্লিয়ার সাবমেরিনের মতোই।

চীন-পাকিস্তান সম্পর্ক অত্যান্ত নিবিড় এবং ভারত উভয় দেশকেই শত্রু জ্ঞান করে। চীন, পাকিস্তানকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই সাবমেরিন দিতে পারলে ভারত মহাসাগর ও আরব সাগরে নিশ্চিত ভাবেই দুই দেশেরই প্রভাব বাড়বে এবং মধ্যপ্রাচ্যেও প্রভাব বিস্তার করা যাবে। গুয়াদার পোর্ট আর সি-পেকের মাধ্যমে চীন চায় সিকিউর সী লাইন। পাকিস্তানের পুরোনো আগোস্তা-ক্লাস সাবগুলোর মডার্নাইজেশন চললেও, হ্যাঙ্গররা নতুন দিগন্ত খুলবে। প্রথম সাবমেরিন আনুষ্ঠানিক ভাবে এসেছিল ২০২৪ এপ্রিলে, দ্বিতীয় মার্চ ২০২৫-এ, তৃতীয় আগস্টে পিএনএস ম্যাঙ্গ্রো। এই সবই চীনের ওয়ুহান বন্দর থেকে বেরিয়ে আসছে।

দক্ষিণ এশিয়ার সাগরে এখন নতুন খেলা শুরু। পাকিস্তানের এই সাবমেরিন ফ্লিট ভারতের নৌশক্তির ব্যালেন্সে চ্যালেঞ্জ তুলবে। চীন-পাকিস্তানের এই অ্যালায়েন্স যেন বলছে, ভারত মহাসাগর আর আরব সাগরে শুধু ভারতের দাপট শেষ।

 

 

সূত্র: Global Times, Naval News, Reuters, Wikipedia, The Defense Post

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman