দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
গত বছরের জুলাইয়ে যারা রক্ত ঝরিয়েছিল, তারাই আজ আবার মাথা তুলছে। বগুড়া সদর, শেরপুর, শাজাহানপুর, ধুনট এলাকায় রাতের অন্ধকারে মোটরসাইকেলে করে দুষ্কৃতিকারীরা আগুন ধরিয়ে দিচ্ছে দোকান, গুদাম, প্রতিপক্ষের রাজনৈতিক অফিস কিছুই যেন রেহাই পাচ্ছে না। আর এই নতুন আগুনের পেছনে নাকি সেই পুরনো মুখগুলো যারা জুলাই হত্যা ও সহিংসতা মামলার পলাতক আসামিরা জড়িত বলে অভিযোগ আছে।
গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি থাকলেও তারা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে, টাকার জোরে চার্জশিটে নাম বাদ দেওয়ার তদবির করছে, আর পুরনো রাজনৈতিক শক্তিকে আবার জাগিয়ে তুলতে সন্ত্রাস চালাচ্ছে। এমনই ভয়ঙ্কর অভিযোগ উঠছে বগুড়ার স্থানীয়দের পক্ষ থেকে।
স্থানীয়রা বলছে, এদের মধ্যে অন্যতম মাথা শেরপুরের আলাল আহমেদ। গত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কার প্রভাবশালী ব্যবসায়ী, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবুর রহমান মজনুর এলাকার লোক। তার নামে একাধিক হত্যা ও আগুন সন্ত্রাসের মামলা থাকা সত্ত্বেও সে আজও ধরাছোঁয়ার বাইরে। তার নেতৃত্বে পলাতক আসামিরা একত্রিত হচ্ছে বলে গুঞ্জন আছে। এ কাজের জন্য প্রচুর টাকা ছড়ানো হচ্ছে, আর রাতের অন্ধকারে আগুন আগুন দেয়া হচ্ছে বিভিন্ন স্থাপনায়।
গত কয়েক সপ্তাহে শেরপুর, শাজাহানপুর, ধুনটে ছোট-বড় অন্তত ১৫টি অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার ধরন একই রকম, মোটরসাইকেলে এসে পেট্রোল ঢেলে আগুন, তারপর পালিয়ে যাওয়া। পুলিশও স্বীকার করছে, এই কায়দা বিগত দিনগুলোর সহিংসতার সঙ্গে হুবহু মিলে যাচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী বললেন, “গত বছর আমার তিনটা দোকান পুড়িয়ে দিয়েছিল। এখনও মামলা চলছে। কিন্তু যারা পোড়ালো, তারাই আজ প্রকাশ্যে বাজারে ঘুরছে। রাতে দোকান পাহারা দিতে হচ্ছে। ভয়ে কেউ মুখ খুলতে চায় না।”
বগুড়ায় জুলাই-সংক্রান্ত মামলা আছে ৬৬টি, হত্যা মামলা ৯টি। পুলিশ সুপার জেদান আল মুসা বলছেন, ৩৭টি মামলার মধ্যে ১২টির চার্জশিট হয়েছে, হত্যা মামলার ৭টির চার্জশিট দেওয়া হয়েছে।
অন্য একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে, পলাতক আসামিরা প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে “বড় অঙ্কের প্রস্তাব দিচ্ছে চার্জশিট থেকে নাম বাদ দেওয়ার জন্য।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি অ্যাডভোকেট মোজাম্মেল হক বলেছেন, “এই মামলাগুলো যদি দ্রুত না শেষ হয়, আসামিরা আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে। শহীদদের রক্ত বৃথা যাবে।”
পুলিশ বলছে, গ্রেপ্তার অভিযান চলছে। যারা গত বছর মানুষ পোড়ালো, তারাই আজ আবার দিয়াশলাই হাতে। আর শহীদের পরিবার আর ক্ষতিগ্রস্তরা আতংকিত রাত কাটাচ্ছে।
