দ্য সিভিলিয়ানস ।নিউজ ডেস্ক ।
পুলিশ সদস্যকে মারধরের অভিযোগে পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের ভরতপুরের বহিষ্কৃত তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের ছেলে গোলাম নবী আজাদকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার ভোরে গ্রেপ্তারের পর তাকে শক্তিপুর থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
এই গ্রেপ্তারের ঘটনায় রাজনৈতিকভাবে চাপে পড়েছেন হুমায়ুন কবীর। মাত্র এক সপ্তাহ আগে বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেসকে ‘উচিত শিক্ষা’ দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে তিনি ‘জনতা উন্নয়ন পার্টি’ নামে নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করেছিলেন। ছেলের গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে সেই উদ্যোগেই বড় ধরনের ধাক্কা এলো বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হুমায়ুন কবীরের নিরাপত্তায় নিয়োজিত পুলিশ সদস্য জুম্মা খান রোববার ভোরে ছুটি সংক্রান্ত বিষয়ে বিধায়কের সঙ্গে কথা–কাটাকাটিতে জড়ান। বিষয়টি জানাজানি হলে হুমায়ুন কবীরের কার্যালয়ে পৌঁছান তাঁর ছেলে গোলাম নবী আজাদ। সেখানে পুলিশ সদস্য জুম্মা খানের সঙ্গে তাঁরও তর্কাতর্কি হয়। একপর্যায়ে জুম্মা খানকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। পরে জুম্মা খান থানায় মামলা করলে পুলিশ গোলাম নবী আজাদকে গ্রেপ্তার করে।
ছেলের গ্রেপ্তারের খবর পেয়ে হুমায়ুন কবীর তাঁর সব রাজনৈতিক কর্মসূচি বাতিল করে দ্রুত থানায় যান। পুলিশ সুপারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে রোববার রাতেই বন্ডে সই করে ছেলেকে ছাড়িয়ে আনেন তিনি। তবে মারধরের মামলাটি বহাল রয়েছে।
এ ঘটনার পর পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী বলেন, যিনি নিজের নিরাপত্তারক্ষীকেই সামলাতে পারেন না, তিনি কীভাবে রাজ্য শাসনের কথা বলেন। অন্যদিকে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য কটাক্ষ করে বলেন, এসব নাটক হুমায়ুন কবীরকে আলোচনায় রাখার কৌশল ছাড়া কিছু নয়।
উল্লেখ্য, গত মাসে মুর্শিদাবাদের বেলডাঙ্গায় ‘বাবরি মসজিদ’ নির্মাণের ঘোষণা দিয়ে বিতর্কে জড়ান হুমায়ুন কবীর। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ৫ ডিসেম্বর তাঁকে তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বহিষ্কার করা হয়। তার পরদিনই তিনি ওই মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
