লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

মালিতে বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোর সমন্বিত হামলা

প্রকাশিত: 26 এপ্রিল 2026

3 Views

The Civilians News

দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।

পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মালি-তে বড় ধরনের সমন্বিত হামলার ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাজধানী বামাকোসহ একাধিক কৌশলগত এলাকায় হামলা চালানোর দাবি করেছে চরমপন্থী ইসলামী ও বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলো।

আল-কায়েদা-সমর্থিত জামায়াত নুসরাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন (জেএনআইএম) এবং তুয়ারেগ গোষ্ঠী আজাওয়াদ লিবারেশন ফ্রন্ট যৌথভাবে হামলার দায় স্বীকার করে। তাদের দাবি, প্রেসিডেন্ট আসিমি গোইতা-এর প্রশাসনিক কাঠামো, সামরিক ঘাঁটি ও বিমানবন্দর লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। কিদালসহ কয়েকটি এলাকায় নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবিও করেছে তারা, যদিও তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয়নি।

মালির সেনাবাহিনী পাল্টা জানায়, বড় ধরনের অভিযান চালিয়ে বহু হামলাকারীকে হত্যা করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। রাজধানীতে কারফিউ জারি করা হয়েছে।

মালি দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ক্ষমতার লড়াইয়ের মধ্যে রয়েছে। ২০১২ সালে তুয়ারেগ বিদ্রোহ এবং পরবর্তীতে চরমপন্থী ইসলামী ও বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোর উত্থান হলে মালি শাসনব্যাবস্থায় সংকট শুরু হয়। এরপর ২০২০ ও ২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসেন কর্নেল আসিমি গোইতা, যিনি এখনো ট্রানজিশনাল প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেশ পরিচালনা করছেন।

ব্যাপক দুর্নীতি এবং উত্তরাঞ্চলে দীর্ঘদিনের অবহেলা, জন অসন্তোষ ও দুর্বল শাসন  ব্যবস্থা এসব কারণই সংকটকে গভীর করেছে। ফলে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ অনেক জায়গায় দুর্বল হয়ে পড়ে, যা বিচ্ছিন্নতাবাদীদের শক্তিশালী হতে সুযোগ করে দিয়েছে।

মালিতে সক্রিয় বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী হলো জেএনআইএম, যা আল-কায়েদা-এর সঙ্গে সম্পৃক্ত। এরা সাধারণত গ্রামীণ ও মরুভূমি অঞ্চলে গেরিলা কৌশলে হামলা চালায়, সেনা ঘাঁটি দখল করে এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর আস্থাও তারা অনেকাংশে অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। তারা প্রায়ই স্থানীয়দের সরকারের উপর বিদ্যমান অসন্তোষকে কাজে লাগায় যেমন, বিশেষ করে দরিদ্রতা, বেকারত্ব, এবং সরকারের প্রতি আস্থাহীনতা। এর ফলে গোষ্ঠীগুলো অনেক এলাকায় নিজেদের “বিকল্প শাসন”ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতেও সফল হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মালির সরকারের বড় ব্যর্থতা ছিল—

  • সীমাহীন দুর্নীতি, জনগণের মতামত ও অধিকার উপেক্ষা করা
  • উত্তরাঞ্চলে কার্যকর প্রশাসন প্রতিষ্ঠা করতে না পারা
  • সেনাবাহিনীর দুর্বল সমন্বয় ও প্রস্তুতির অভাব
  • স্থানীয় জনগণের আস্থা অর্জনে ব্যর্থতা
  • বিদেশি বাহিনীর ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা

বিশেষ করে ফরাসি বাহিনী প্রত্যাহারের পর নিরাপত্তা শূন্যতা আরও বেড়ে যায়। পরবর্তীতে রাশিয়ার ভাড়াটে বাহিনীর ওপর নির্ভরতা বাড়ালেও স্থায়ী সমাধান আসেনি।

বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট আসিমি গোইতা বা মালির কেন্দ্রীয় সরকার দেশ ছেড়ে পালিয়েছে, এমন কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। সরকার এখনো রাজধানী বামাকোতে নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে বলে দাবি করছে এবং সেনাবাহিনী পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে।

এই হামলা শুধু একটি নিরাপত্তা ইস্যু নয়, বরং মালির দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক দুর্বলতা, ক্ষমতার শূন্যতা এবং আঞ্চলিক সংঘাতের প্রতিফলন। বিচ্ছিন্নতাবাদীদের যৌথ অভিযান ইঙ্গিত দিচ্ছে, সামনে আরও বড় অস্থিরতা তৈরি হতে পারে যদি জনগণের আশা আকাঙ্খার প্রতিফলন ঘটাতে ব্যার্থ বা আস্থা অর্জন করতে না পারলে মালির বর্তমান শাসন ব্যবস্থা আরো ঝুঁকির মুখে পরে যাবে।

 

 

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman