লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

নতুন বাংলাদেশের সূচনা এই নির্বাচন: প্রধান উপদেষ্টা

প্রকাশিত: 17 ফেব্রুয়ারী 2026

26 Views

The Civilians News

দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেবল ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া নয়, বরং বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার নতুন অভিযাত্রার সূচনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, এই নির্বাচনের মাধ্যমে একটি নতুন বাংলাদেশের জন্ম হয়েছে।

সোমবার রাতে জাতির উদ্দেশে ভাষণে তিনি দীর্ঘ ১৭ বছর পর একটি উৎসবমুখর, অংশগ্রহণমূলক ও শান্তিপূর্ণ জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের জন্য দেশবাসীকে অভিনন্দন জানান। তাঁর ভাষ্য, জনগণ, রাজনৈতিক দল, প্রার্থী, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি প্রশংসনীয় দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশের নির্বাচন কেমন হওয়া উচিত, এই নির্বাচন তার উদাহরণ হয়ে থাকবে।

১৮ মাস দায়িত্ব পালনের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, একটি নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রাক্কালে বিদায় জানাতে তিনি জাতির সামনে এসেছেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে তিনি দায়িত্ব গ্রহণের প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করেন।

তিনি বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার সময় প্রশাসনের ভেতরে আস্থার সংকট ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। একই সময়ে দেশে সহিংসতা ও প্রাণহানির ঘটনা পরিস্থিতিকে জটিল করে তোলে। তবে দেড় যুগ পর জাতীয় নির্বাচন এবং ব্যাপক সাংবিধানিক পরিবর্তনের লক্ষ্যে জুলাই সনদের ওপর গণভোট আয়োজন সম্ভব হয়েছে। তাঁর ভাষায়, নির্বাচনের দিন দেশজুড়ে ছিল উৎসবের পরিবেশ, যা ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

প্রধান উপদেষ্টা জয়ী ও পরাজিত উভয় পক্ষকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, হার-জিতই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। জয়ী প্রার্থীরা প্রায় অর্ধেক ভোট পেয়েছেন, আর পরাজিতরাও উল্লেখযোগ্য ভোট পেয়েছেন—এটি জনগণের আস্থার প্রতিফলন।

সরকারের সময়ে মানবতাবিরোধী অপরাধ, দুর্নীতি ও অনিয়মের বিচারপ্রক্রিয়াকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ঊর্ধ্বে রাখার কথা উল্লেখ করেন তিনি। ভঙ্গুর প্রতিষ্ঠান সংস্কার, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন এবং ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার কথা তুলে ধরেন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান।

অভ্যুত্থান-পরবর্তী অস্থির সময়ে সশস্ত্র বাহিনী ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, পারস্পরিক সংযম ও দায়িত্ববোধ দেশকে স্থিতিশীলতার পথে এগিয়ে নিতে সহায়তা করেছে।

সংস্কার ও আইনগত পরিবর্তন

প্রধান উপদেষ্টা জানান, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের লক্ষ্যে প্রায় ১৩০টি নতুন আইন ও সংশোধনী প্রণয়ন এবং প্রায় ৬০০টি নির্বাহী আদেশ জারি করা হয়েছে, যার অধিকাংশই বাস্তবায়িত। বিচার বিভাগকে শক্তিশালী করতে পৃথক সচিবালয় গঠন, বিচারক নিয়োগে স্বচ্ছ কাঠামো এবং দেওয়ানি ও ফৌজদারি আইনে পরিবর্তন আনা হয়েছে। পুলিশকে জবাবদিহিমূলক বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ ২০২৫ প্রণয়ন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, গুম, খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যার সংস্কৃতি যাতে আর ফিরে না আসে, সে লক্ষ্যে কাঠামোগত পরিবর্তন আনা হয়েছে। একাধিক ট্রাইব্যুনাল সক্রিয়ভাবে কাজ করছে এবং কিছু মামলার রায়ও হয়েছে।

জুলাই সনদ ও গণভোট

জুলাই সনদকে অন্তর্বর্তী সরকারের সবচেয়ে বড় অর্জন উল্লেখ করে তিনি বলেন, গণভোটে জনগণ বিপুল সমর্থন দিয়েছে। সনদ বাস্তবায়িত হলে স্বৈরতন্ত্রের পথ চিরতরে বন্ধ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

পররাষ্ট্রনীতি ও অর্থনীতি

পররাষ্ট্রনীতিতে সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন ভারসাম্যপূর্ণ ও আত্মবিশ্বাসী কূটনীতির পথে এগোচ্ছে। আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বন্দর দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের উদ্যোগের কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

ভাষণের শেষাংশে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার বিদায় নিলেও গণতন্ত্র, জবাবদিহি ও অধিকার চর্চার ধারা যেন থেমে না যায়। নতুন বাংলাদেশ গড়ার দায়িত্ব সবার।

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman