দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
মুসলিম উম্মাহর জন্য মাহে রমজান রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস। হিজরি ক্যালেন্ডারের নবম মাস রমজানেই নাজিল হয় পবিত্র কোরআন, যা মানবজাতির জন্য হেদায়াতের দিশারি। ইসলামি শিক্ষায় এই মাস আত্মশুদ্ধি, সংযম ও তাকওয়া অর্জনের অনন্য সুযোগ হিসেবে বিবেচিত।
রমজানের রোজা ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের একটি। সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার ও ইন্দ্রিয়সংযমের মাধ্যমে মুমিনরা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করেন। রোজা শুধু ক্ষুধা ও তৃষ্ণা সহ্য করার নাম নয়, বরং মিথ্যা, গীবত, অন্যায় ও পাপ থেকে বিরত থাকার প্রশিক্ষণও বটে।
এই মাসে ইবাদতের সওয়াব বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয় বলে হাদিসে বর্ণিত আছে। তারাবির নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, দান সদকা ও এতিম মিসকিনের পাশে দাঁড়ানো রমজানের গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। লাইলাতুল কদর, যা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম, এই মাসেই রয়েছে।
সামাজিক দিক থেকেও রমজান সংহতির বার্তা দেয়। ইফতার মাহফিল, যাকাত ও ফিতরা বিতরণ সমাজে সম্পদের ভারসাম্য আনে এবং দরিদ্র মানুষের মুখে হাসি ফোটায়। ধনী গরিবের ব্যবধান কমাতে রমজানের ভূমিকা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
বিশ্লেষকদের মতে, রমজান কেবল আচার নয়, বরং নৈতিক বিপ্লবের মাস। ব্যক্তি, পরিবার ও রাষ্ট্র জীবনে সততা, ন্যায় ও দায়িত্ববোধ প্রতিষ্ঠার অনুপ্রেরণা দেয় এই পবিত্র সময়। আত্মসংযমের মাধ্যমে আল্লাহভীতি অর্জনই রমজানের চূড়ান্ত শিক্ষা।
