দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে ভাষা আন্দোলনের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)-এর ভেতরে সমন্বয়হীনতা ও অন্তর্কোন্দলের অভিযোগ সামনে এসেছে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ্যে এলে তা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যেও আলোচনা শুরু হয়।
শুক্রবার দিবাগত রাতে ডাকসুর একটি অংশ শহীদ মিনারে গিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন সাদিক কায়েম, এস এম ফরহাদ ও মহিউদ্দিন খানসহ কয়েকজন সদস্য। অভিযোগ উঠেছে, এ কর্মসূচিতে ডাকসুর অন্যান্য সম্পাদকদের অনেকেই অবহিত ছিলেন না।
ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমা ফেসবুকে ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, বাংলাদেশ টেলিভিশনের লাইভ সম্প্রচার দেখে তারা জানতে পারেন ডাকসুর পক্ষ থেকে ফুল দেওয়া হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েকজন সম্পাদককে এ বিষয়ে আগে থেকে জানানো হয়নি।
ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা সমন্বয়হীনতার সরাসরি অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, প্রথম প্রহরে কখন ফুল দেওয়া হবে—এ বিষয়ে জানতে চাওয়ার পর তাকে জানানো হয়, রাষ্ট্রীয় প্রটোকল অনুযায়ী কেবল সিনেট সদস্যরা অংশ নেবেন। কিন্তু পরে দেখা যায়, অন্য একটি ছাত্র সংগঠনের ইউনিয়ন পর্যায়ের কর্মীরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
জুমার অভিযোগ, প্রভাতফেরীর আয়োজন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে হলেও সংশ্লিষ্ট বার্তা কেবল ভিপি, জিএস ও এজিএসের কাছে সীমাবদ্ধ ছিল। গ্রুপে জিজ্ঞাসা করার পরও বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়নি। পরে নিজ উদ্যোগে তথ্য জেনে তিনি গ্রুপে নোটিস দেন।
তার বক্তব্য, যদি সিনেট সদস্যদের ব্যানারে কর্মসূচি পালনের পরিকল্পনা থাকত, সেটিও আগে থেকে জানানো যেত। তাহলে অন্যান্য সম্পাদকদের অপ্রস্তুত হতে হতো না এবং অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক তৈরি হতো না।
ডাকসুর শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি আক্ষেপ জানিয়ে তিনি বলেন, অনেক বিষয় আলোচনা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব। শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্বকারী একটি সংগঠনে অভ্যন্তরীণ যোগাযোগে ঘাটতি থাকলে তা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।
ডাকসুর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনকে ঘিরে সংগঠনটির ভেতরে সমন্বয় ও যোগাযোগ সংকট নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
