দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপ অভিযানে আজ মাঠে নামছে পর্তুগাল। ইউরোপীয় ফুটবলের অন্যতম শক্তিধর দলটি গ্রুপ ‘কে’-এর উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হবে আফ্রিকার প্রতিনিধি ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর। যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনের এনআরজি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ম্যাচটি আন্তর্জাতিক ফুটবলের ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের জন্ম দিতে যাচ্ছে, কারণ এই প্রথমবারের মতো প্রতিযোগিতামূলক বা প্রীতি কোনো ম্যাচেই একে অপরের বিপক্ষে খেলবে না দল দুটি।
কাগজে কলমে পর্তুগাল স্পষ্ট ফেভারিট। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর নেতৃত্বে গড়া দলটিতে রয়েছে ইউরোপের শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক তারকা ফুটবলার। দীর্ঘদিন ধরে অধরা থাকা বিশ্বকাপ ট্রফি জয়ের স্বপ্ন এবার আরও জোরালোভাবে দেখছে পর্তুগিজরা। ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের স্বাদ পেলেও বিশ্বকাপের মঞ্চে এখনো শিরোপা জেতা হয়নি তাদের।
বিশ্বকাপে পর্তুগালের সেরা সাফল্য ১৯৬৬ সালে তৃতীয় স্থান অর্জন। এরপর ২০০৬ সালে চতুর্থ হলেও আর কখনো শেষ চারে পৌঁছাতে পারেনি দলটি। কাতার বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নেওয়ার পর এবার নতুন প্রত্যাশা নিয়ে মাঠে নামছে রবার্তো মার্টিনেজের শিষ্যরা।
সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সও আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে পর্তুগালকে। বাছাইপর্বে বড় জয় এবং প্রস্তুতি ম্যাচগুলোতে ধারাবাহিক সাফল্য দলটিকে অন্যতম শিরোপা প্রত্যাশী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। আক্রমণভাগে রোনালদোর অভিজ্ঞতার সঙ্গে তরুণদের গতি ও সৃজনশীলতা প্রতিপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
অন্যদিকে কঙ্গোর জন্য এটি শুধুই একটি ম্যাচ নয়, বরং ইতিহাসের অংশ হয়ে ওঠার সুযোগ। দীর্ঘ ৫২ বছর পর বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নেওয়া দলটি ইতোমধ্যে নিজেদের সাফল্যের গল্প লিখে ফেলেছে। আন্তঃমহাদেশীয় প্লে অফে জয় পেয়ে বিশ্বমঞ্চে ফেরা কঙ্গো এখন আরও বড় স্বপ্ন দেখছে।
সাম্প্রতিক সময়ে আফ্রিকার দলটি বেশ সংগঠিত ফুটবল উপহার দিয়েছে। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে লড়াই করার সামর্থ্য দেখিয়েছে তারা। বিশেষ করে রক্ষণভাগের শৃঙ্খলা এবং দ্রুত পাল্টা আক্রমণ তাদের অন্যতম শক্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
গ্রুপ ‘কে’-তে পর্তুগাল ও কঙ্গোর সঙ্গে রয়েছে কলম্বিয়া এবং উজবেকিস্তান। বিশ্বকাপের সম্প্রসারিত কাঠামোর কারণে তৃতীয় স্থান অর্জনকারী দলগুলোরও পরবর্তী পর্বে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। ফলে প্রতিটি ম্যাচের গুরুত্ব অনেক বেশি।
বিশ্লেষকদের মতে, পর্তুগালের লক্ষ্য থাকবে আত্মবিশ্বাসী জয় দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করা। অন্যদিকে কঙ্গো চাইবে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে লড়াকু পারফরম্যান্স দেখিয়ে গ্রুপ পর্বের পরের ম্যাচগুলোর জন্য ইতিবাচক বার্তা দিতে।
আজকের ম্যাচে তাই শুধু জয়-পরাজয় নয়, বিশ্বকাপের নতুন এক প্রতিদ্বন্দ্বিতার সূচনাও দেখবে ফুটবল বিশ্ব।
