দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
ইরান ও রাশিয়ার মধ্যে একটি গোপন অস্ত্রচুক্তি ‘ফাইনান্সিয়াল টাইমস’–এর সূত্রে প্রকাশ পেয়েছে, যার মূল্য প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ইউরো (প্রায় ৫৮৯ মিলিয়ন ডলার)। এই চুক্তির মাধ্যমে ইরান রাশিয়া থেকে আধুনিক কাঁধে বহনযোগ্য আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা “ভারবা” লঞ্চার ৫০০টি এবং প্রায় ২ হাজার ৫০০টি “9M336” ক্ষেপণাস্ত্র কিনবে। এই তথ্য অনলাইনেও ফাঁস হওয়া রাশিয়ান নথি ও কয়েকজন ঘটনা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বরাতে জানানো হয়েছে।
চুক্তিটি ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে মস্কোতে স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং এতে রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত অস্ত্র রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান রোসোবোরোনেক্সপোর্ট (Rosoboronexport) ও ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি অংশ নিয়েছে। আরেকটি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই লঞ্চারগুলো ২০২৭ থেকে ২০২৯ সালের মধ্যে ধাপে ধাপে সরবরাহ করা হবে, যদিও কিছু ইউনিট আগেই পৌঁছতে পারে।
“ভারবা” ব্যবস্থা হচ্ছে একটি আধুনিক, ইনফ্রারেড-নির্দেশিত আকাশ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি যা ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, নিচু উচ্চতায় উড়ে আসা বিমান ও ড্রোনের মতো লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করতে সক্ষম। এটি ছোট মোবাইল ইউনিটের মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে ব্যবহার করা যায়, ফলে স্থির রাডার বা বড় পরিসরের স্থাপনার প্রয়োজন কমে যায়।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান এই চুক্তি করেছে তার গত বছরের ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের বন্দুকযুদ্ধের পর আকাশ প্রতিরক্ষা শক্তি পুনঃগঠন ও শক্তিশালী করতে। ওই সংঘাতে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা অবকাঠামোর কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বলে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণে ধরা পড়েছিল। এতে এমন আধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনা ইরানের জন্য তাৎক্ষণিক নিরাপত্তা বৃদ্ধির পাশাপাশি ভবিষ্যত ঝুঁকিও কমাতে সহায়তা করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
চুক্তির কিছু অংশে নাইট ভিশন লক্ষ্য শনাক্তকরণ সরঞ্জামও রয়েছে, যা রাতে বা অন্ধকারে লক্ষ্যবস্তু সনাক্তকরণে ব্যবহৃত হবে। তবে এই ডিলটি আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও পরিমিত কূটনৈতিক চাপের মধ্যে হচ্ছে—এটি বিশ্ব রাজনীতিতে বিপুল প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের বক্তব্য অনুযায়ী, এমন অস্ত্রচুক্তি ইরানের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে ক্ষুদ্র হলেও একটি পরিবর্তন আনতে পারে; বিশেষত নিম্ন উচ্চতায় ও গতিময় লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করার ক্ষেত্রে। পাশাপাশি এটি রাশিয়ার সঙ্গে তেহরানের কৌশলগত সহযোগিতাকে আরও দৃঢ় করে তুলতে পারে, যদিও বর্তমান সময়ে কোনো বড় নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান প্রকাশিত হয়নি।
সূত্র: Financial Times via Reuters ও Iran International
