দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। অতীতের সংসদ নির্বাচনে জোটগত সমঝোতা থাকলেও এবার স্থানীয় নির্বাচনে আলাদা লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল -BNP, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
নির্বাচন কমিশন আগামী এক বছরের মধ্যে ধাপে ধাপে সব স্তরের স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা নিয়েছে। ইতোমধ্যে দলীয় প্রতীকে স্থানীয় নির্বাচন বাতিল হওয়ায় রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি যাচাইয়ের সুযোগ হিসেবে দেখছে এই নির্বাচনকে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বড় জয় পাওয়ার পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও সেই ধারা বজায় রাখতে চায় বিএনপি। দলটির নেতারা বলছেন, প্রতীক না থাকলেও মাঠপর্যায়ে জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণার পর পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নামবে বিএনপি। সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম এবং প্রধানমন্ত্রী Tতারেক রহমানের উন্নয়ন পরিকল্পনাও ভোটারদের সামনে তুলে ধরা হবে।
দলীয় সূত্র জানায়, তৃণমূলের বিরোধ নিয়ন্ত্রণ এবং স্থানীয় জনপ্রিয়তাকে প্রাধান্য দিয়েই প্রার্থী নির্ধারণের কাজ এগোচ্ছে।
সংসদ নির্বাচনে জোটে থাকলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এককভাবে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। দলটি ইতোমধ্যে বিভিন্ন সিটি করপোরেশনের সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীর তালিকা চূড়ান্ত করেছে।
হামিদুর রহমান আজাদ জানিয়েছেন, পৌরসভা, উপজেলা, জেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থী বাছাই চলছে। তরুণ নেতৃত্ব এবং সাবেক ছাত্রনেতাদেরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলীয় প্রতীক না থাকায় জামায়াত এবার নিজেদের সাংগঠনিক ভিত্তি যাচাইয়ের বড় সুযোগ পাচ্ছে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে সবচেয়ে আগে প্রস্তুতি শুরু করেছে এনসিপি। দলটি ইতোমধ্যে উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌর মেয়র পদে প্রায় ১০০ সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে।
আখতার হোসেন জানিয়েছেন, এনসিপি মূলত এককভাবেই নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে প্রয়োজন হলে জোটগত আলোচনার পথও খোলা রাখা হয়েছে।
এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সার্জিস আলম বলেন, যোগ্যতা ও গ্রহণযোগ্যতার ভিত্তিতে প্রার্থী তালিকা তৈরি করা হয়েছে এবং ‘নামকাওয়াস্তে সমঝোতা’ দল মেনে নেবে না।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ১২টি সিটি করপোরেশন, প্রায় ৪৯০ উপজেলা পরিষদ, ৩৩০ পৌরসভা এবং ৬১ জেলা পরিষদের নির্বাচন মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে আছে। এছাড়া হাজার হাজার ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনও বাকি রয়েছে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, আগামী এক বছরের মধ্যেই সব ধাপের নির্বাচন সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দলীয় প্রতীক বাতিল হওয়ায় এবারের স্থানীয় সরকার নির্বাচন জাতীয় রাজনীতির নতুন শক্তির ভারসাম্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির পৃথক অংশগ্রহণ তৃণমূল রাজনীতিতে নতুন প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্ম দেবে।
