লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

টানা বর্ষণে সাজেকে আটকা প্রায় ৪০০ পর্যটক, বিচ্ছিন্ন রাঙামাটির একাধিক সড়ক যোগাযোগ

প্রকাশিত: 08 জুলাই 2026

0 Views

The Civilians News

দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।

টানা ভারী বর্ষণ এবং পাহাড়ি ঢলের কারণে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি ও লংগদু উপজেলার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। মাইনী নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছানোয় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এর ফলে সাজেক ভ্যালিতে আটকা পড়েছেন প্রায় ৪০০ পর্যটক। একই সঙ্গে বন্ধ রয়েছে দূরপাল্লার যানবাহন চলাচল।

স্থানীয় প্রশাসন ও বাসিন্দাদের তথ্য অনুযায়ী, কয়েক দিনের অব্যাহত বৃষ্টিতে মাইনী নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে বাঘাইছড়ি-দীঘিনালা এবং লংগদু-দীঘিনালা সড়কের বিভিন্ন অংশ প্লাবিত হয়েছে। কোথাও কোথাও পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। আবার কয়েকটি স্থানে সড়কের মাটি সরে যাওয়ায় নতুন করে ধসের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। ফলে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে যাতায়াত মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

সাজেকে যাওয়ার প্রধান সড়ক পানির নিচে চলে যাওয়ায় পর্যটকেরা সেখানে আটকা পড়েছেন। এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বৈরী আবহাওয়া, ভারী বর্ষণ এবং পাহাড়ধসের আশঙ্কায় রাঙামাটি জেলা প্রশাসন পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাজেক পর্যটনকেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে। তবে সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার আগেই অনেক পর্যটক সেখানে অবস্থান করায় তারা এখন ফিরতে পারছেন না।

লংগদু-দীঘিনালা সড়কের মেরুং এলাকায়ও মাইনী নদীর পানি সড়কের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে ওই পথে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। একই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি সড়কের নানিয়ারচরের কেঙ্গেলছড়ি এলাকায়। এছাড়া রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি-মহালছড়ি সড়কের কয়েকটি অংশ হাঁটুসমান পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচলে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনেও অনেককে হেঁটে পানি পার হয়ে গন্তব্যে যেতে হচ্ছে।

সাজেক কটেজ মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক রাহুল চাকমা জানান, আবহাওয়ার উন্নতি হলে এবং সড়ক থেকে পানি নেমে গেলে আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপদে খাগড়াছড়ির দিকে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে। তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় পর্যটকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত কক্ষভাড়া নেওয়া হচ্ছে না।

এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তার কারণে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের পরিস্থিতিতে পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। তাই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক হতে আরও সময় লাগতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman