দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
একাধিক মামলায় জামিন পাওয়ার পরও নতুন একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে। এর ফলে আপাতত কারামুক্তি হচ্ছে না তাঁর। বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত বনানী থানার একটি হত্যাচেষ্টা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, পুলিশের আবেদনের পর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান এ আদেশ দেন। শুনানির সময় খায়রুল হককে আদালতে সরাসরি হাজির করা হয়নি। তাঁকে ভার্চুয়ালি উপস্থিত দেখিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সংশ্লিষ্ট মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন আদালত গ্রহণ করেছেন। একই সঙ্গে এ মামলায় জামিন চেয়ে তাঁর আইনজীবীরা আবেদন করেছেন। বিষয়টি নিয়ে আদালতে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
আদালতের বাইরে প্রতিক্রিয়ায় খায়রুল হকের আইনজীবী মোনায়েম নবী শাহিন অভিযোগ করেন, একটি মামলায় জামিন পাওয়ার পরপরই নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর কারণে তাঁর মুক্তি বারবার বিলম্বিত হচ্ছে। তিনি বলেন, এটি নবম মামলা যেখানে তাঁর মক্কেলকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
খায়রুল হকের আরেক আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু বলেন, সংশ্লিষ্ট মামলাটি দায়েরের সময় তাঁর মক্কেল কারাগারে ছিলেন। তাঁর দাবি, কারাগারে থাকা অবস্থায় সংঘটিত ঘটনার সঙ্গে তাঁকে সম্পৃক্ত করে গ্রেপ্তার দেখানোর আইনগত ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। অন্যদিকে তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট রাজধানীর মহাখালী এলাকায় আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা, গুলিবর্ষণ এবং বিস্ফোরণের ঘটনায় উজ্জ্বল মিয়া নামের এক ব্যক্তি ২০২৫ সালের ২০ নভেম্বর বনানী থানায় হত্যাচেষ্টা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা করেন। সেই মামলাতেই খায়রুল হককে নতুন করে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
এর আগে গত ৩০ জুন রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার একটি হত্যা মামলায় তাঁকে ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন হাইকোর্ট। তবে জামিন কার্যকর হওয়ার আগেই নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করায় তাঁর মুক্তি স্থগিত হয়ে যায়।
২০২৫ সালের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে এ বি এম খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে বর্তমানে হত্যা, হত্যাচেষ্টা, রায় জালিয়াতি এবং দুর্নীতিসহ একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
উল্লেখ্য, এ বি এম খায়রুল হক ২০১০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের ঊনবিংশতম প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ২০১১ সালে তাঁর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের রায়ে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল ঘোষণা করা হয়, যার মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্ত হয়। অবসরের পর তিনি আইন কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং ২০২৪ সালের আগস্টে সেই পদ থেকে পদত্যাগ করেন।
