লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

বাহরাইন ও কুয়েতে মার্কিন স্থাপনায় ইরানের হামলার দাবি, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা

প্রকাশিত: 08 জুলাই 2026

0 Views

The Civilians News

দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা আবারও তীব্র আকার ধারণ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বিমান হামলার জবাবে বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস। ইরানের দাবি, অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের ৮৫টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে। তবে এই দাবির স্বাধীন বা আনুষ্ঠানিক আন্তর্জাতিক যাচাই এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত সামরিক বিবৃতিতে বলা হয়, বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর এবং কুয়েতের আলী আল-সালেম বিমানঘাঁটিসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাকে লক্ষ্য করে যৌথ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন অভিযান চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে একটি মার্কিন এমকিউ-নাইন ড্রোন ভূপাতিত করার দাবিও করেছে আইআরজিসি।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, এর আগে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন দফায় সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। ওয়াশিংটনের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জবাবে ইরানের সামরিক স্থাপনা ও নৌ সক্ষমতার ওপর আঘাত হানা হয়েছে। মার্কিন বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, অভিযানে ইরানের বিপুলসংখ্যক সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে।

হামলার পর বাহরাইন ও কুয়েতে বিমান হামলার সতর্কসংকেত বাজানো হয় এবং দুই দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়। কুয়েতের সেনাবাহিনী জানায়, তারা শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মোকাবিলায় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করেছে। তবে হামলায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বা কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

এই সংঘাত এমন এক সময়ে নতুন করে শুরু হলো, যখন উভয় পক্ষের মধ্যে একটি নাজুক যুদ্ধবিরতি কার্যকর ছিল। ইরান অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র সেই সমঝোতা লঙ্ঘন করে নতুন করে হামলা চালিয়েছে। অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই তারা সামরিক পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে।

নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে এবং হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

এদিকে আন্তর্জাতিক মহল উভয় পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হলে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সংঘাত আরও বিস্তৃত হতে পারে এবং এর প্রভাব বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও অর্থনীতিতেও পড়তে পারে।

 

সূত্রঃ আল জাজিরা

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman