লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

ইরানের দাবি: মদ্ধপ্রাচ্চের প্রায় সব কয়টি মার্কিন ঘাঁটি মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে , ৫৬০ সেনা নিহত ও আহত

প্রকাশিত: 02 মার্চ 2026

63 Views

The Civilians News

দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।

তেহরান, ২ মার্চ ২০২৬: ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাতের মধ্যে ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে যে, তাদের প্রতিশোধমূলক হামলায় আমেরিকান সামরিক ঘাঁটিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এই দাবির মধ্যে রয়েছে কুয়েতে একটি মার্কিন ঘাঁটি সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় করা, বাহরাইনে ড্রোন হামলায় গুরুতর ক্ষয়ক্ষতি, ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন বিমানবাহী জাহাজে ৪টি মিসাইল আঘাত এবং এখন পর্যন্ত ৫৬০ মার্কিন সেনা নিহত বা আহত। এই দাবিগুলো ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ এজেন্সি এবং আইআরজিসির মুখপাত্রের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, যা পশ্চিমা গণমাধ্যম যেমন ওয়াশিংটন পোস্ট, ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এবং ফ্রান্স২৪-এর মতো নির্ভরযোগ্য সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এই দাবিগুলোকে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং বলেছে যে, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক কম।

২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে ব্যাপক বিমান হামলা চালায়, যাতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেই নিহত হন। এর প্রতিশোধ হিসেবে ইরান ‘অপারেশন ট্রু প্রমিস ৪’ নামে ইরান ব্যাপক মিসাইল এবং ড্রোন হামলা চালায়, যা মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত আমেরিকান ঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। ইরানের দাবি অনুসারে, এই হামলায় আমেরিকান সামরিক শক্তিকে গুরুতর আঘাত করা হয়েছে।

ইরানের নির্দিষ্ট দাবি এবং সূত্রসমূহ:
১. কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটি ‘সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয়’: আইআরজিসি দাবি করেছে যে, কুয়েতের আলি আল সালেম এয়ার বেস এবং ক্যাম্প আরিফজানে ব্যাপক হামলা চালিয়ে ঘাঁটিটিকে সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। ফ্রান্স২৪-এর রিপোর্টে বলা হয়েছে যে, কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় কয়েকটি মিসাইল আটকিয়েছে, কিন্তু ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশ্চিত করেছেন যে, রানওয়েতে ‘গুরুতর ক্ষয়ক্ষতি’ হয়েছে। মিডল ইস্ট আই-এর রিপোর্ট অনুসারে, কুয়েতে বিস্ফোরণের ধোঁয়া দেখা গেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র বলছে যে, কোনো ঘাঁটি সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় হয়নি।

২. বাহরাইনে ড্রোন হামলায় গুরুতর ক্ষয়ক্ষতি: ইরান দাবি করেছে যে, বাহরাইনের নেভাল সাপোর্ট অ্যাকটিভিটি (যেখানে ইউএস নেভির ফিফথ ফ্লিটের সদর দপ্তর) চারটি ড্রোন দিয়ে আক্রমণ করা হয়েছে, যাতে কমান্ড সেন্টার এবং সাপোর্ট সেন্টারে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আল মায়াদিন নিউজের রিপোর্টে এই দাবি উল্লেখ করা হয়েছে। ওয়াশিংটন পোস্ট এবং ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের ভিডিওতে দেখা যায় যে, একটি রাডার স্ট্রাকচারের কাছে ধোঁয়া উঠছে। বাহরাইন সরকার নিশ্চিত করেছে যে, ফিফথ ফ্লিটের সার্ভিস সেন্টারে মিসাইল হামলা হয়েছে।

৩. ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন বিমানবাহী জাহাজে ৪টি মিসাইল আঘাত: আইআরজিসি দাবি করেছে যে, আরব সাগরে অবস্থিত এই ক্যারিয়ারে চারটি ক্রুজ মিসাইল দিয়ে হামলা করা হয়েছে, যাতে জাহাজটি তার অবস্থান থেকে সরে যেতে বাধ্য হয়েছে। প্যালেস্টাইন ক্রনিকল এবং ইউক্রেনীয় মিডিয়া ইউএনএন-এর রিপোর্টে এই দাবি উল্লেখ করা হয়েছে। আল জাজিরায় একটি মার্কিন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, জাহাজটি মিসাইলের লক্ষ্যবস্তু হয়েছে, কিন্তু কোনো ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেননি।

৪. ৫৬০ মার্কিন সেনা নিহত-আহত: ইরানের দাবি অনুসারে, এই হামলায় এখন পর্যন্ত ৫৬০ মার্কিন সেনা নিহত বা আহত হয়েছে। প্যালেস্টাইন ক্রনিকলে আইআরজিসির মুখপাত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে এই সংখ্যা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে এবং বলেছে যে, হতাহতের সংখ্যা অনেক কম – উদাহরণস্বরূপ, কুয়েতে মাত্র ৩ জন সেনা নিহত হয়েছে (এনবিসি রিপোর্ট অনুসারে)। চোসুন ইলবো-এর রিপোর্টে ইরানের দাবি ২০০ জন হতাহতের কথা বলা হয়েছে, যা পশ্চিমা সূত্রে যাচাই হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা বলেছেন যে, বেশিরভাগ ইরানি মিসাইল এবং ড্রোন আটকানো হয়েছে এবং কোনো ঘাঁটি সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় হয়নি। স্ক্রিপস নিউজ এবং ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের রিপোর্ট অনুসারে, মার্কিন সেনাদের সুরক্ষিত বাঙ্কারে রাখা হয়েছে এবং হতাহতের সংখ্যা ন্যূনতম। কুয়েত, বাহরাইন এবং অন্যান্য উপসাগরীয় দেশগুলো বলেছে যে, তারা কয়েকটি হামলা আটকিয়েছে, কিন্তু কিছু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। জাতিসংঘ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন সংঘাত থামানোর আহ্বান জানিয়েছে।

তেহরান এবং উপসাগরীয় শহরগুলোতে বিস্ফোরণের ধোঁয়া এবং আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। দুবাই এবং দোহায় বিমানবন্দর স্থগিত হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে প্রভাবিত করেছে। এই সংঘাতের ফলে জ্বালানি বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে, যা বিশ্বের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় প্রভাব ফেলবে।

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman