দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক । খন্দকার আজিজুর রহমান ।
অমর একুশে বইমেলায় এবারও সবচেয়ে চোখে পড়ার মতো দৃশ্য তরুণ পাঠকদের সরব উপস্থিতি। বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানজুড়ে বইপ্রেমীদের ভিড় থাকলেও ১৮ থেকে ৩০ বছর বয়সী পাঠকরাই যেন মেলার প্রাণ হয়ে উঠেছেন।
মেলায় প্রবেশ করতেই দেখা যায় দল বেঁধে আসা শিক্ষার্থী ও তরুণদের উচ্ছ্বাস। কেউ বন্ধুদের সঙ্গে নতুন বই খুঁজছেন, কেউ প্রিয় লেখকের স্টলের সামনে অপেক্ষা করছেন অটোগ্রাফের আশায়। অনেকের হাতে একাধিক বইয়ের ব্যাগ, আবার কেউ নতুন বইয়ের পাতা উল্টে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন কোনটি কিনবেন। বই ঘিরে এমন প্রাণবন্ত পরিবেশ মেলাকে দিয়েছে উৎসবের রূপ।
বিভিন্ন স্টলের বিক্রেতারা জানান, তরুণ পাঠকদের আগ্রহ বিশেষ করে উপন্যাস, কবিতা, অনুবাদ সাহিত্য ও সমসাময়িক চিন্তাধারার বইয়ের প্রতি বেশি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচিত বইগুলো খুঁজে খুঁজে কিনছেন তারা। অনেকেই বন্ধুদের সুপারিশ কিংবা অনলাইন রিভিউ দেখে বই নির্বাচন করছেন।
মেলার ভেতরে হাঁটলে শোনা যায় বই নিয়ে আলোচনা, নতুন লেখক আবিষ্কারের আনন্দ কিংবা ছাড়ের খবর ভাগাভাগি করার কথোপকথন। তরুণদের এই অংশগ্রহণ প্রকাশনা শিল্পের জন্য ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখছেন প্রকাশকরা। তাদের মতে, নতুন প্রজন্ম বইমুখী থাকলে বাংলা সাহিত্য ও পাঠসংস্কৃতির ধারাবাহিকতা আরও শক্তিশালী হবে।
ডিজিটাল যুগে বইয়ের প্রতি তরুণদের এমন আগ্রহ প্রমাণ করে যে পাঠাভ্যাস এখনো সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে আছে। অমর একুশে বইমেলা তাই কেবল বই বিক্রির আয়োজন নয়, বরং নতুন পাঠক তৈরির এক জীবন্ত সাংস্কৃতিক মঞ্চ।
