দ্য সিভিলিয়ানস । আন্তর্জাতিক ডেস্ক ।
যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে নতুন করে প্রবেশ করতে যাচ্ছে ইরানের বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, সমুদ্রে ট্যাংকারে আটকে থাকা প্রায় ১৭ কোটি ব্যারেল ইরানি তেল এখন বিক্রির সুযোগ পাচ্ছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
জ্বালানি বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের বিপুল তেল বিভিন্ন ট্যাংকারে সংরক্ষিত ছিল। এক মাসের জন্য নিষেধাজ্ঞা শিথিল হওয়ায় এসব তেল খালাস ও আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে সরবরাহের পথ খুলে গেছে। তবে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এনার্জি আসপেক্টস মজুতের পরিমাণ কিছুটা কম বলে উল্লেখ করে জানিয়েছে, বর্তমানে প্রায় ১৩ থেকে ১৪ কোটি ব্যারেল তেল প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতসহ এশিয়ার বড় জ্বালানি আমদানিকারক দেশগুলো ইতোমধ্যে এই তেল কেনার আগ্রহ দেখাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানির ওপর উচ্চ নির্ভরতার কারণে তুলনামূলক দ্রুত সরবরাহ পাওয়া গেলে এসব দেশের জ্বালানি ব্যয় কমতে পারে।
এদিকে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এতে অনেক তেল শোধনাগার উৎপাদন কমাতে বাধ্য হয়েছে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, ইরানের এই অতিরিক্ত তেল বাজারে প্রবেশ করলে সাময়িকভাবে জ্বালানি সংকট কিছুটা প্রশমিত হতে পারে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ওপরও প্রভাব পড়তে পারে।
তবে রাজনৈতিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকায় এই সরবরাহ কতদিন স্থায়ী হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।
