রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়ায় পদ্মা নদীতে বাস ডুবে যাওয়ার ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৩ জনে দাঁড়িয়েছে। তলিয়ে যাওয়া বাসটি উদ্ধার করা হয়েছে।
নিহতদের মধ্যে ১১ নারী, চার পুরুষ ও আট শিশু রয়েছেন। ২১ জনের মরদেহ ইতোমধ্যে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) তাপস কুমার পাল ও জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নেজারত ডেপুটি কালেক্টর মো. হাফিজুর রহমান এ তথ্য জানান।
নিহতরা হলেন- রাজবাড়ী পৌরসভার ভবানীপুর লালমিয়া সড়ক এলাকার মৃত ইসমাঈল হোসেন খানের স্ত্রী রেহেনা আক্তার (৬১), কুষ্টিয়া পৌরসভার ১৮ নং ওয়ার্ডের মজমপুর গ্রামের মো. আবু বক্কর সিদ্দিকের স্ত্রী মর্জিনা খাতুন (৫৬), কুষ্টিয়া সদর উপজেলার খাগড়বাড়ীয়া গ্রামের হিমাংশু বিশ্বাসের ছেলে রাজীব বিশ্বাস (২৮), রাজবাড়ী পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ড সজ্জনকান্দা গ্রামের মৃত ডা. আবদুল আলীমের মেয়ে জহুরা অন্তি (২৭), একই গ্রামের কাজী মুকুলের ছেলে কাজী সাইফ (৩০), গোয়ালন্দ উপজেলার ছোট ভাকলা ইউনিয়নের চর বারকিপাড়া গ্রামের রেজাউল করিমের স্ত্রী মর্জিনা আক্তার (৩২), কুষ্টিয়া জেলার খোকসা উপজেলার সমাজপুর ইউনিয়নের ধুশুন্দু গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের ছেলে শিশু ইস্রাফিল (৩), গোয়ালন্দ উপজেলার ছোটভাকলা ইউনিয়নের চর বারকিপাড়া গ্রামের রেজাউল করিমের মেয়ে সাফিয়া আক্তার রিন্থি (১২), রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার বোয়ালিয়া ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামের বিল্লাল হোসেনের মেয়ে ফাইজ শাহানূর (১১), রাজবাড়ী পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ডের কেবিএম মুসাব্বিরের ছেলে তাজবিদ (৭), বালিয়াকান্দি উপজেলার পশ্চিম খালখোলা গ্রামের আরব খানের ছেলে গাড়িচালক আরমান খান (৩১)।
কালুখালী উপজেলার মহেন্দ্রপুর গ্রামের আব্দুল আজিজের স্ত্রী নাজমিরা জেসমিন (৩০), রাজবাড়ী সদর উপজেলার মিজানপুর ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামের সোবাহান মণ্ডলের মেয়ে লিমা আক্তার (২৬), সদর উপজেলার মিজানপুর ইউনিয়নের বড় চর বেনি নগর গ্রামের মান্নান মন্ডলের স্ত্রী জোছনা (৩৫), গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া উপজেলার আমতলী ইউনিয়নের নোয়াধা গ্রামের মৃত জাহাঙ্গীর আলমের স্ত্রী মুক্তা খানম (৩৮), দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর উপজেলার পলাশবাড়ী ইউনিয়নের মথুয়ারাই গ্রামের মৃত নূর ইসলামের স্ত্রী নাছিমা (৪০), ঢাকা জেলার আশুলিয়া উপজেলার বাগধুনিয়া পালপাড় গ্রামের মো. নুরুজ্জামানের স্ত্রী আয়েশা আক্তার সুমা (৩০), রাজবাড়ী পৌরসভার সোহেল মোল্লার মেয়ে সোহা আক্তার (১১), কুষ্টিয়া জেলার খোকসা উপজেলার সমসপুর ইউনিয়নের গিয়াস উদ্দিন রিপনের মেয়ে আয়েশা সিদ্দিকা (১৩), ঝিনাইদহ জেলার শৈলকূপা উপজেলার কাচেরকোল ইউপির নুরুজ্জামানের ছেলে শিশু আরমান (৭ মাস), রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার রতনদিয়া ইউনিয়নের মহেন্দ্রপুর গ্রামের আব্দুল আজিজের ছেলে আব্দুর রহমান (৬), রাজবাড়ী সদর উপজেলার দাদশী ইউনিয়নের আগমারাই গ্রামের শরিফুল ইসলামের ছেলে সাবিত হাসান (৮) ও রাজবাড়ী পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ড ভবানীপুর লালমিয়া সড়ক এলাকার ইসমাইল হোসেন খানের ছেলে আহনাফ তাহমিদ খান (২৫)।
হাসপাতাল ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল থেকে ২১ জনের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে দুটি মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সূত্র জানায়, বাসটি নদীর ৮০-৯০ ফুট গভীরে তলিয়ে যায়। একপর্যায়ে বাসটি পন্টুনের নিচে আটকে যায়। উদ্ধারকারী জাহাজ হামজার বাসটি ধীরে ধীরে ওপরে তুলে আনে।
এর আগে বুধবার বিকেল সোয়া ৫টার দিকে ঘাটের ৩ নং পন্টুন থেকে কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাগামী সৌহার্দ্য পরিবহনের ওই বাস ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়। বাসটিতে ৫০ জনের মতো যাত্রী ছিলেন বলে জানা গেছে। তবে দুর্ঘটনার সময় তাৎক্ষণিক ১১ জনের মতো যাত্রী বাস থেকে বেরিয়ে যেতে সক্ষম হন।
