দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও চরম উত্তেজনার মধ্যেও হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিয়ে স্বস্তির বার্তা দিয়েছে ইরান। তেহরান জানিয়েছে, বাংলাদেশসহ কয়েকটি ‘বন্ধুপ্রতিম’ দেশের জাহাজকে এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ ব্যবহার করতে বিশেষ নিরাপত্তা সুবিধা দেওয়া হবে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, পশ্চিমা গণমাধ্যমে প্রচারিত দাবির বিপরীতে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ করা হয়নি। বরং নিরাপদ চলাচলের জন্য বিভিন্ন দেশ ও জাহাজ মালিকদের সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় করছে তেহরান। তিনি জানান, যেসব দেশকে ইরান বন্ধু হিসেবে বিবেচনা করে বা বিশেষ অনুমতি দেয়, তাদের জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইরানি সশস্ত্র বাহিনী সরাসরি পাহারা দিচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত দেশের তালিকায় রয়েছে চীন, রাশিয়া, পাকিস্তান, ইরাক, ভারত এবং বাংলাদেশ। ইতোমধ্যে ভারতের দুটি জাহাজ নিরাপদে প্রণালি অতিক্রম করেছে এবং বাংলাদেশের সঙ্গেও সমন্বয় প্রক্রিয়া চলছে বলে ইরান জানিয়েছে।
বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বৈশ্বিক তেল ও এলএনজির প্রায় এক পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। তবে ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে জাহাজ চলাচল নাটকীয়ভাবে কমে যায়। শিপিং বিশ্লেষণ প্ল্যাটফর্ম লয়েডস লিস্ট ও কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, মার্চ মাসে এই রুটে জাহাজ চলাচল প্রায় ৯৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
ইরান একই সঙ্গে সতর্ক করে বলেছে, যেসব দেশকে তারা প্রতিপক্ষ হিসেবে বিবেচনা করে বা চলমান সংঘাতে সরাসরি যুক্ত, তাদের জাহাজ এই জলপথ ব্যবহারের সুযোগ পাবে না। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি এখন ইরানের গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত চাপের হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের জন্য এই সুবিধা জ্বালানি আমদানি ও সরবরাহ শৃঙ্খল সচল রাখতে বড় স্বস্তি এনে দিতে পারে, বিশেষ করে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার যখন অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।
