দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
ইরানে পাকিস্তান দূতাবাসের নিকটবর্তী এলাকায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার খবরে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইসলামাবাদ। পাকিস্তান সরকার-সংশ্লিষ্ট থিংকট্যাংক ‘পাকিস্তান স্ট্র্যাটেজিক ফোরাম’ সতর্ক করে বলেছে, পাকিস্তানি কূটনীতিকদের ক্ষতি হলে কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) পাকিস্তানের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার তেহরান ও আশপাশের এলাকায় চালানো বিমান হামলার সময় বিস্ফোরণের কম্পনে পাকিস্তান দূতাবাস ও রাষ্ট্রদূতের বাসভবন কেঁপে ওঠে। যদিও এতে কোনো পাকিস্তানি কূটনীতিক বা কর্মকর্তা আহত হননি।
বিবৃতিতে পাকিস্তান স্ট্র্যাটেজিক ফোরাম জানায়, আঞ্চলিক সংঘাতের মধ্যেও কূটনৈতিক মিশনের নিরাপত্তা আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় সুরক্ষিত থাকা উচিত। তারা ইঙ্গিতপূর্ণ ভাষায় বলে, “ইসরায়েল মনে রাখবে, পাকিস্তান কাতার নয়,” যা সম্ভাব্য কঠোর প্রতিক্রিয়ার বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ইতোমধ্যে প্রায় এক মাসে গড়িয়েছে। ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে হামলা ও পাল্টা হামলায় অঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে পাকিস্তান নিজেকে সম্ভাব্য মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তুলে ধরেছে। ইসলামাবাদ জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো সম্মত হলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংলাপ আয়োজনেও তারা প্রস্তুত।
অন্যদিকে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই ইরানের বিদ্যুৎ অবকাঠামোর ওপর পরিকল্পিত সাইবার বা সামরিক হামলার সিদ্ধান্ত আবারও স্থগিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নতুন সময়সূচি অনুযায়ী সম্ভাব্য পদক্ষেপ ৬ এপ্রিল পর্যন্ত পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সূত্র জানিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, কূটনৈতিক স্থাপনার নিকটে হামলার ঘটনা আঞ্চলিক উত্তেজনাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে এবং বড় শক্তিগুলোর সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
