দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
চিকিৎসাবিজ্ঞানে এক যুগান্তকারী অগ্রগতির মাধ্যমে মানুষের শরীরে জিন-সম্পাদিত শূকরের কিডনি সফলভাবে প্রতিস্থাপনের ঘটনা নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে। সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক গবেষণায় দেখা গেছে, পরীক্ষামূলকভাবে প্রতিস্থাপিত একটি শূকরের কিডনি মানুষের শরীরে টানা ২৭১ দিন পর্যন্ত কার্যকর ছিল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সাফল্য ভবিষ্যতে অঙ্গ প্রতিস্থাপনের দীর্ঘদিনের সংকট দূর করার পথে বড় অগ্রগতি।
বিশ্বজুড়ে প্রতি বছর অসংখ্য রোগী কিডনি প্রতিস্থাপনের অপেক্ষায় থাকেন, কিন্তু উপযুক্ত দাতার অভাবে অনেকেই চিকিৎসা পাওয়ার আগেই মৃত্যুবরণ করেন। যুক্তরাষ্ট্রে কিডনি প্রতিস্থাপনের অপেক্ষমাণ তালিকায় প্রায় ৯০ হাজার রোগী রয়েছেন এবং প্রতিদিন গড়ে একাধিক রোগী অঙ্গের অভাবে প্রাণ হারান। এই সংকট সমাধানে বিজ্ঞানীরা বহু বছর ধরে ‘জেনোট্রান্সপ্লান্ট’ বা ভিন্ন প্রজাতির অঙ্গ মানুষের শরীরে প্রতিস্থাপনের প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা চালিয়ে আসছেন।
গবেষকদের মতে, শূকরের অঙ্গ আকার ও শারীরবৃত্তীয় বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে মানুষের সঙ্গে তুলনামূলকভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে বড় বাধা ছিল মানবদেহের ইমিউন সিস্টেমের প্রত্যাখ্যান প্রতিক্রিয়া এবং ভাইরাস সংক্রমণের আশঙ্কা। আধুনিক জিন সম্পাদনা প্রযুক্তি ব্যবহার করে শূকরের ডিএনএ থেকে নির্দিষ্ট জিন অপসারণের মাধ্যমে এই ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব হয়েছে। ফলে প্রতিস্থাপিত অঙ্গ দীর্ঘ সময় কার্যকর রাখা গেছে।
এ প্রযুক্তির সম্ভাব্য সুফল ব্যাপক। সফলভাবে প্রয়োগ করা গেলে ডায়ালাইসিসনির্ভর রোগীরা স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন এবং অঙ্গ সংকট উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে। ভবিষ্যতে শূকরের হৃদযন্ত্র, ফুসফুস বা লিভার প্রতিস্থাপনও বাস্তবে রূপ নিতে পারে বলে ধারণা করছেন বিজ্ঞানীরা।
বাংলাদেশের মতো দেশে যেখানে অঙ্গদানের সচেতনতা সীমিত, সেখানে এই প্রযুক্তি চিকিৎসা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিরাপত্তা ও নৈতিক বিষয়গুলো নিশ্চিত করে ধাপে ধাপে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল এগোলে জেনোট্রান্সপ্লান্ট চিকিৎসাবিজ্ঞানের নতুন অধ্যায় হয়ে উঠবে।
গবেষণা সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো ইতোমধ্যে আরও বড় পরিসরে পরীক্ষা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী বছরগুলোতে মানবদেহে প্রাণীর অঙ্গ প্রতিস্থাপন চিকিৎসার নিয়মিত অংশ হয়ে উঠতে পারে।
