লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

নারায়ণগঞ্জ হত্যাকাণ্ডে নেতৃত্ব দেয় শামীম ওসমান, ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ

প্রকাশিত: 01 এপ্রিল 2026

17 Views

The Civilians News

দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে নারায়ণগঞ্জে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র গ্রহণ করা হয়েছে। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ১ অভিযোগটি আমলে নেয়।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ এলাকায় শামীম ওসমান সরাসরি উপস্থিত থেকে সশস্ত্র সহযোগীদের নিয়ে আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে নির্বিচারে গুলি চালান। এতে শিশুসহ অন্তত ১০ জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন শহীদ পারভেজ, কিশোর আদিল, ইয়াসিন, আবুল হোসেন, রাসেল রানা, আবদুর রহমান, রাকিব ব্যাপারী, বদিউজ্জামান, আবুল হাসান এবং ৬ বছরের শিশু রিয়া গোপ। এছাড়া অসংখ্য আন্দোলনকারী গুরুতর আহত হন।

প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ড বাস্তবায়নে শামীম ওসমানের সঙ্গে ছিলেন তার ছেলে ইমতিনান ওসমান অয়ন, ভাতিজা আজমেরী ওসমান, আত্মীয় মো. মিনহাজ উদ্দিন আহমেদ ও তানভির আহম্মেদসহ সহযোগীরা। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, আন্দোলন দমনে তৎকালীন সরকারের নির্দেশ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে শামীম ওসমান নিয়মিতভাবে কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন।

অভিযোগপত্রে তিনটি পৃথক হত্যার ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে। প্রথম ঘটনায় ১৯ জুলাই নারায়ণগঞ্জে ছয়জনকে হত্যা করা হয়। দ্বিতীয় ঘটনায় ২১ জুলাই ফতুল্লা এলাকায় আবদুর রহমান ও রাকিব ব্যাপারী নিহত হন। তৃতীয় ঘটনায় ৫ আগস্ট চাষাঢ়া এলাকায় হামলায় বদিউজ্জামান ও আবুল হাসান নিহত হন। প্রত্যেক ঘটনাতেই আন্দোলনকারীদের ওপর পরিকল্পিত হামলা ও গুলিবর্ষণের অভিযোগ আনা হয়েছে।

প্রসিকিউশন আরও দাবি করেছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দমনে দেশজুড়ে প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল এবং এর ফলে সারা দেশে এক হাজার চার শতাধিক মানুষ নিহত ও আড়াই হাজারের বেশি মানুষ গুরুতর আহত হন, যা মানবতাবিরোধী অপরাধের পর্যায়ে পড়ে।

ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন জানান, মামলাটি বর্তমানে অভিযোগ গঠন পর্যায়ে রয়েছে। অভিযোগ গঠনের পর সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হবে। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিচারিক প্রক্রিয়া এগোলে নারায়ণগঞ্জের ঘটনাগুলোর নির্দেশদাতা ও বাস্তবায়নকারীদের ভূমিকা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে।

 

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman