দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
বাংলাদেশে সাম্প্রতিককালে সাংসদ মুফতি আমির হামজা কর্তৃক নারী সংসদ সদস্যদের সম্পর্কে কুরুচিপূর্ণ ও অবমাননাকর মন্তব্যের বিষয়ে জনজ কঠোর প্রতিক্রিয়া ও প্রতিবাদ শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ নারীমুক্তি কেন্দ্র-এর কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সীমা দত্ত ও সাধারণ সম্পাদক নিলুফার ইয়াসমিন শিল্পী এক যৌথ বিবৃতিতে এই মন্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে মুফতি আমির হামজাকে বক্তব্য প্রত্যাহার করে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনার দাবি জানিয়েছেন।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সংসদ সদস্যদের নিয়ে কুৎসিত মন্তব্য করা নারীর মর্যাদা ও সমাজে নারীর অবস্থানকে অবমূল্যায়ন করে। এটি শুধু নারীদের প্রতি অবমাননার প্রমাণ নয় বরং নারীর প্রতি ঘৃণা ও বৈষম্য উস্কে দেয় এবং সমাজের নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তারা বলেছেন, “এ ধরনের বক্তব্য নারীর নিরাপত্তা, মর্যাদা ও কর্মপরিবেশকে হুমকির মুখে ফেলবে।”
এই মন্তব্য রাজনীতিকদের মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে, যেখানে মুফতি আমির হামজা সংসদে বসা অবস্থায় কয়েকজন নারী এমপির শরীরাকৃতি নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন। মন্তব্যটিকে অনেকেই নারীর প্রতি অবমাননা ও অসম্মানের কাজ হিসেবে দেখেছেন। নারী সাংসদ রুমীন ফারহানা ও ফারজানা শারমিন অবশ্য আক্রমণ নীতি অবলম্বন না করে তার মন্তব্যের গভীর প্রকৃতি তুলে ধরেছেন। ফারজানা শারমিন মন্তব্যটি দেখেছেন ও বলেছেন, “এ ধরনের মন্তব্য দিয়ে তিনি দেশের প্রতিটি নারীকে অসম্মান করেছেন।”
এই ঘটনার পরে বিভিন্ন সংগঠন ও রাজনৈতিক দলও প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে। অনেকেই বলেন, সংবিধান অনুযায়ী নারীর সমান অধিকার ও মর্যাদা রক্ষা করা বাংলাদেশের মৌলিক নীতি। তাই সংসদে নির্বাচিত সাংসদদের সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য করা গ্রহণযোগ্য নয়। তারা আরও বলেছেন, এমন মন্তব্য একটি ধর্মীয় নেতা ও সাংসদ হিসেবে দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজ।
বাংলাদেশ নারীমুক্তি কেন্দ্র বলেছে, এই মন্তব্য দেশের নারীদের মানুষের মর্যাদা দেয়ায় ব্যর্থতার প্রতিনিধিত্ব করে যা সমাজে পশ্চাতপদ চিন্তা ও ঘৃণা সংস্কৃতিকে উস্কে দিতে পারে। তারা পুনরায় জোর দিয়ে বলেছেন মন্তব্য প্রত্যাহার করে ক্ষমা প্রার্থনা করা হোক যাতে নারী ও সমাজের মধ্যে সমতা ও সম্মানের পরিবেশ বজায় থাকে।
রাজনীতিতে নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের বক্তব্য দেশের সামাজিক ও সাংগঠনিক পরিবেশকে প্রভাবিত করতে পারে। সংসদে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সম্পর্কে এমন মন্তব্য কোনোভাবেই নৈতিক বা সাংবিধানিক গুরুত্বপূর্ন নয়। ইতোমধ্যে এই বিষয়ে মন্তব্য প্রত্যাহার ও ক্ষমা চাওয়ার দাবী উঠেছে যা একটি গুরুত্বপূর্ণ নৈতিক ইস্যুতে রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
