দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর মানসিক সক্ষমতা ও নেতৃত্বের স্থিতিশীলতা নিয়ে দেশটির নাগরিকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, তার জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এখন ৩৬ শতাংশে নেমে এসেছে, যা তার বর্তমান মেয়াদের মধ্যে সর্বনিম্ন।
রয়টার্স এবং এলপিএসওএস (Ipsos) পরিচালিত ছয় দিনব্যাপী এই জরিপে উঠে এসেছে, প্রায় ৬২ শতাংশ মার্কিনি ট্রাম্পের কর্মকাণ্ডে আস্থা রাখতে পারছেন না। জরিপটি ২১ এপ্রিল শেষ হয় এবং এতে বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের নাগরিক অংশ নেন।
জরিপের ফলাফলে দেখা যায়, অর্ধেকের বেশি অংশগ্রহণকারী মনে করেন, গত এক বছরে ট্রাম্পের মানসিক তীক্ষ্ণতা কমে গেছে। এমনকি তার নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির মধ্যেও এ নিয়ে বিভক্তি তৈরি হয়েছে। প্রায় ৪৬ শতাংশ রিপাবলিকান সমর্থক তাকে শান্ত ও সংযত নেতা হিসেবে দেখতে রাজি নন।
বিবিসি নিউজ এবং সিএনএন এর বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক কিছু বক্তব্য ও আচরণ ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। বিশেষ করে ইরানকে লক্ষ্য করে কঠোর হুমকি এবং ধর্মীয় নেতাদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য সাধারণ ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে।
জরিপে আরও দেখা যায়, মাত্র ২৬ শতাংশ মার্কিনি ট্রাম্পকে ধৈর্যশীল নেতা হিসেবে বিবেচনা করেন। অন্যদিকে, তার বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অবস্থান যেমন ন্যাটো (NATO) থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত সাধারণ মানুষের মধ্যে খুব কম সমর্থন পেয়েছে। মাত্র ১৬ শতাংশ নাগরিক এ ধরনের সিদ্ধান্তের পক্ষে মত দিয়েছেন।
এছাড়া মিত্র দেশগুলোর প্রতি কড়া অবস্থান এবং কিছু ক্ষেত্রে সামরিক শক্তি প্রদর্শনের হুমকিও জনগণের একাংশের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এসব বিষয় নেতৃত্বের স্থিরতা এবং পররাষ্ট্রনীতির ধারাবাহিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
আল জাজিরা এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচনী রাজনীতি যত এগোচ্ছে, ততই নেতৃত্বের ব্যক্তিগত সক্ষমতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ধরণ নিয়ে আলোচনা বাড়ছে। এতে ভোটারদের মনোভাবও দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে।
জনপ্রিয়তা কমে যাওয়া এবং মানসিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা যে কোনো নেতার জন্য বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ। সামনে নির্বাচন ঘনিয়ে এলে এই ইস্যুগুলো আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে এবং ভোটারদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে।
সূত্র: Reuters, Ipsos
