দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলে জেনারেল খলিফা হাফতার (Khalifa Haftar) নিয়ন্ত্রিত বাহিনীর কাছে পাকিস্তান থেকে অস্ত্র সরবরাহ করা হয়েছে বলে একাধিক আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এই অস্ত্র সরবরাহ একটি সৌদি অর্থায়নে হওয়া বড় ধরনের চুক্তির অংশ ছিল বলেজানা গেছে, যা মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার ভূরাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
রয়টার্স এর প্রাথমিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের বরাতে জানা যায়, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির এর বেনগাজি সফরের পর এই চুক্তি চূড়ান্ত হয়। চুক্তিটির আর্থিক মূল্য প্রায় ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বলে দাবি করা হচ্ছে।
অন্যদিকে মিডল ইস্ট আই এক আরব কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, অন্তত পাঁচটি পাকিস্তানি কার্গো বিমান মার্চ মাসে লিবিয়ার বেনগাজি বিমানবন্দরে অস্ত্রবাহী চালান নামিয়েছে। তবে এই দাবির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কোনো স্বীকৃতি বা ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এই চুক্তির মাধ্যমে আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে চাওয়া হয়েছে, বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রভাব কমানোর কৌশল হিসেবে বিষয়টি দেখা হচ্ছে। সৌদি আরবের অর্থায়নকে কেন্দ্র করে এই ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা আরও জটিল আকার নিচ্ছে বলেও মন্তব্য করেছেন বিশ্লেষকরা।
সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, লিবিয়ার দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক বিভাজন এবং বহিঃশক্তির হস্তক্ষেপ দেশটির স্থিতিশীলতাকে বারবার বাধাগ্রস্ত করছে। পূর্ব ও পশ্চিম লিবিয়ার মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব এখনো চলমান।
এ ধরনের অভিযোগ আন্তর্জাতিক আইন ও অস্ত্র বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার ওপরও প্রশ্ন তুলছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি এ ধরনের অস্ত্র সরবরাহ সত্য হয়, তবে তা শুধু লিবিয়া নয় বরং পুরো উত্তর আফ্রিকা অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
তবে এখন পর্যন্ত পাকিস্তান বা সৌদি আরবের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি এখনো যাচাইাধীন তথ্যের পর্যায়ে রয়েছে বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।
লিবিয়ার মতো সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে অস্ত্র সরবরাহ সংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগ অত্যন্ত সংবেদনশীল। নিশ্চিত তথ্য ছাড়া এমন পরিস্থিতি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো কঠিন হলেও, এই ধরনের প্রতিবেদন আঞ্চলিক শক্তিগুলোর মধ্যকার প্রতিযোগিতা ও অস্থিরতার ইঙ্গিত দেয়।
সূত্র: Middle East Eye
