দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
ইরানের ‘ছায়া ব্যাংকিং নেটওয়ার্ক’ পরিচালনা এবং দেশটির প্রতিরক্ষা খাতকে সহায়তার অভিযোগে ৩৫ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ। বুধবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।
মার্কিন প্রশাসনের দাবি, নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়া ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলো ইরানের তেল বাণিজ্য থেকে অর্জিত অর্থ আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থার বাইরে সরিয়ে নিয়ে দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনী এবং অভিজাত ইউনিট ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস এর কাছে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
ট্রেজারি বিভাগের অধীন বিদেশি সম্পদ নিয়ন্ত্রণ দপ্তর এই পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করেছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট। তবে নিষেধাজ্ঞার তালিকাভুক্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর জাতীয়তা বা অবস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম রয়টার্স ও আল জাজিরা জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও ইরান বৈশ্বিক বাজারে তেল বিক্রি চালিয়ে যাচ্ছে। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে পরিচালিত এক ধরনের ‘ছায়া ব্যাংকিং’ ব্যবস্থার সাহায্যে এই লেনদেন সম্পন্ন হচ্ছে।
এই ব্যবস্থায় মধ্যস্থতাকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানগুলো আন্তর্জাতিক ব্যাংকের বাইরে অর্থ স্থানান্তর করে। এরপর সেই অর্থ ইরানের সরকারি সংস্থা ও সামরিক কাঠামোর কাছে পৌঁছায় বলে দাবি যুক্তরাষ্ট্রের।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই নিষেধাজ্ঞা আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ইরান যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েল উত্তেজনা ২০২৬ পরিস্থিতির মধ্যে তেহরানের অর্থনৈতিক চাপ বাড়াতে চায় ওয়াশিংটন।
এর আগে ইরানের তেল রপ্তানি সীমিত করতে একাধিক নিষেধাজ্ঞা ও বন্দর অবরোধ আরোপ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। তবুও বিকল্প পথ ব্যবহার করে তেহরান তার জ্বালানি বাণিজ্য অব্যাহত রেখেছে বলে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা।
নতুন নিষেধাজ্ঞা ইরানের অর্থনৈতিক চাপ বাড়াতে পারে। তবে বিকল্প আর্থিক নেটওয়ার্ক সক্রিয় থাকলে এর প্রভাব পুরোপুরি বাস্তবায়ন কঠিন হতে পারে।
সূত্র: Reuters
