দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক । ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি ।
রাজধানীর শাহবাগে হামলার ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এ। অভিযোগ, একটি ‘ভুয়া ফটোকার্ড’ যা একাধিক ফ্যাক্ট-চেকারদের দ্বারা মিথ্যা বা ফেইক প্রমাণিত হয়েছে। এই ফটোকার্ডকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনা ঘটার ছয় দিন পেরিয়ে গেলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এখনো এই ঘটনার কোনো কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেনি।
গত ২৩ এপ্রিল সন্ধ্যায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল-এর নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ে দায়িত্বরত সাংবাদিক ও ডাকসু সংশ্লিষ্টদের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, সাংবাদিকদের ‘শিবির’ আখ্যা দিয়ে শাহবাগ থানা-র ভেতরেই মারধর করা হয়।
তবে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন আহত ব্যক্তি ও ছাত্রদলের কিছু নেতাকর্মীর বক্তব্য অনুযায়ী, ওই সময় ছাত্রশিবিরের কোনো কেন্দ্রীয় নেতা বা চিহ্নিত নেতা কর্মী উপস্থিত ছিলেন না। ফলে পুরো ঘটনার ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত ফটোকার্ডটি নিয়ে সন্দেহ আরও গভীর হয়েছে।
অভিযোগের সূত্রপাত হয় সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে সামাজিক মাধ্যমে একটি কুরুচিপূর্ণ ফটোকার্ড পোস্ট করার অভিযোগ থেকে। এতে তারেক রহমান ও তার পরিবারের সদস্যকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল বলে দাবি ওঠে। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই একাধিক ফ্যাক্ট-চেকিং সংস্থা সেটিকে ‘ভুয়া’ বলে চিহ্নিত করে।
রিউমার স্ক্যানার এর মতে তৃতীয় পক্ষ এ ধরণের একটি ভুয়া কার্ড ছড়িয়ে দিয়ে ছাত্রদল ও শিবিরের মধ্যে সংঘর্ষ সৃষ্টি করে একটি অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে ফায়দা হাসিল করতে চাইছে। এই প্রসঙ্গে রিউমার স্ক্যানারের নিউজ লিংক টি সংযুক্ত করা হলো : https://rumorscanner.com/rs-investigation-unit/fake-screenshot-tarique-zaima/203919#google_vignette
এরপর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটিতে আবাসিক শিক্ষক ও আইসিটি বিশেষজ্ঞ রাখা হলেও নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও এখনো তদন্ত শেষ হয়নি। অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা পেরিয়ে ছয় দিন অতিবাহিত হয়েছে।
তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ড. মো. আনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, বিষয়টি প্রযুক্তিগত হওয়ায় যাচাইয়ে সময় লাগছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা সীমিত।
এই ঘটনায় দুটি প্রশ্ন সামনে এসেছে, একদিকে তথ্য যাচাই ছাড়া সহিংসতা, অন্যদিকে তদন্তে বিলম্ব। ডিজিটাল যুগে ভুয়া তথ্য কীভাবে বাস্তব সহিংসতায় রূপ নিতে পারে, এই ঘটনা তার একটি স্পষ্ট উদাহরণ।
