দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সরকারি কাজে বাধা দেওয়া, কর্মকর্তাদের সঙ্গে অসদাচরণ ও নিরাপত্তাকর্মীকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে করা মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য ও অবসরপ্রাপ্ত মেজর আখতারুজ্জামানের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রোববার ঢাকার মহানগর হাকিম জামশেদ আলমের আদালতে তাকে হাজির করে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বিমানবন্দর থানার উপপরিদর্শক মাজেদুল ইসলাম। আখতারুজ্জামানের পক্ষে আইনজীবীরা জামিনের আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এর আগে শনিবার একই মামলায় আখতারুজ্জামানকে এক দিনের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছিলেন ঢাকার মহানগর হাকিম আল বেরুনী মীরের আদালত। পুলিশ পাঁচ দিনের হেফাজত চাইলেও আদালত এক দিনের অনুমতি দেন।
মামলার সূত্র অনুযায়ী গত ১ অক্টোবর মদিনা থেকে আসা একটি উড়োজাহাজ ঢাকায় পৌঁছানোর পর বিমানবন্দরের আট নম্বর লাগেজ বেল্ট এলাকায় ট্রলির সংকট ও লাগেজ পেতে দেরি হওয়াকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। ওই সময় আখতারুজ্জামানসহ জামায়াতে ইসলামীর একটি প্রতিনিধিদল ও তাদের পরিবারের সদস্যরা বিমানবন্দরে ছিলেন। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং আন্তর্জাতিক যাত্রী চলাচলের বড় অংশ এখান দিয়েই হয়ে থাকে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ সেখানে গেলে আখতারুজ্জামান তার সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় জড়ান এবং তাকে হুমকি দেন। পরে তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি বিমানবন্দরের সংরক্ষিত এলাকায় মুঠোফোনে ছবি ধারণ করলে নিরাপত্তা কর্মকর্তা ওয়ারেন্ট অফিসার মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন তাদের বাধা দেন। অভিযোগ রয়েছে এ সময় আখতারুজ্জামান ওই নিরাপত্তাকর্মীর সঙ্গে অসদাচরণ করেন এবং তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন।
এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়েছে যাত্রীদের ট্রলিতে থাকা জমজমের পানির বোতল ছুড়ে ফেলা এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এক প্রতিনিধির সঙ্গে আক্রমণাত্মক আচরণ করা হয়। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে সরকারি কাজে বাধা দেওয়া, হুমকি, মারধর ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিসহ দণ্ডবিধির কয়েকটি ধারায় মামলা করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে মামলার অভিযোগ যাচাইয়ে নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য ও অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
মামলার পর ২ অক্টোবর রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকার বাসা থেকে গোয়েন্দা পুলিশ আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে বিমানবন্দর থানার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
আখতারুজ্জামান ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন। দলটির নিজস্ব প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী তিনি অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা ও মুক্তিযোদ্ধা এবং এর আগে বিএনপির হয়ে কিশোরগঞ্জের একটি আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
তবে অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। মামলার তদন্ত ও পরবর্তী বিচারিক প্রক্রিয়ায় অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারিত হবে। এদিকে জামায়াতে ইসলামী গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ জানিয়ে আখতারুজ্জামানের মুক্তি দাবি করেছে এবং বিমানবন্দরের পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে।
