দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
ফিলিস্তিনে ইসরাইলি দখলদারিত্ব, অবৈধ বসতি সম্প্রসারণ ও মানবাধিকার লঙ্ঘন বন্ধে জাতিসংঘের জরুরি পদক্ষেপ চেয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং তাঁদের জন্য নিরবচ্ছিন্ন মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে দেশটি।
শুক্রবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ‘মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি, ফিলিস্তিন প্রশ্নসহ’ শীর্ষক উন্মুক্ত বিতর্কে বক্তব্য দেওয়ার সময় এ আহ্বান জানান জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত আইরিন খান। শনিবার ঢাকায় প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তাঁর বক্তব্যের বিষয়টি জানানো হয়।
নিরাপত্তা পরিষদের ভূমিকা তুলে ধরে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি বলেন, পরিষদে অচলাবস্থার কারণে ইসরাইল দায়মুক্তি নিয়ে কর্মকাণ্ড চালানোর সুযোগ পেয়েছে। তাঁর মতে, অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে দখলদারিত্ব, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি ও মানবাধিকার লঙ্ঘন বন্ধে নিরাপত্তা পরিষদকে কার্যকর ও দৃঢ় পদক্ষেপ নিতে হবে।
আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং ফিলিস্তিনি জনগণের মৌলিক অধিকার সুরক্ষার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। বাংলাদেশের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে আইরিন খান বলেন, ফিলিস্তিনি জনগণের অবিচ্ছেদ্য আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ দৃঢ় সমর্থন অব্যাহত রাখবে।
আইরিন খান ফিলিস্তিনিদের জন্য নিরবচ্ছিন্ন মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। বিশেষ করে ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর কাছে জরুরি সহায়তা পৌঁছে দিতে মানবিক সংস্থাগুলোর কার্যক্রম অব্যাহত রাখার সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
নিকটপ্রাচ্যে ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য জাতিসংঘের ত্রাণ ও কর্মসংস্থান সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএর কার্যক্রমের প্রতি পূর্ণ সম্মান জানানোর ওপরও গুরুত্ব দেন বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি। তাঁর বক্তব্যে সংঘাতের মধ্যে বাস্তুচ্যুত ও বিপন্ন মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছানোর বিষয়টি বিশেষভাবে উঠে আসে।
জাতিসংঘের আলোচনায় ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে বসতি সম্প্রসারণের বিষয়টি আন্তর্জাতিক উদ্বেগের অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। জাতিসংঘের কর্মকর্তারা এর আগে সতর্ক করেছেন, পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ ও সহিংসতা ফিলিস্তিনিদের ভূমিতে প্রবেশাধিকার সীমিত করছে এবং ভবিষ্যৎ স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
লেবাননে জাতিসংঘের পর্যাপ্ত উপস্থিতি বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
এ ছাড়া সৌদি আরবের বিমানবন্দরে হুতিদের প্রাণঘাতী হামলার নিন্দা জানান আইরিন খান। ওই হামলায় বেসামরিক মানুষের পাশাপাশি বাংলাদেশি অভিবাসী কর্মীরাও হতাহত হয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এ ধরনের হামলা বেসামরিক মানুষের জীবন এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি সৃষ্টি করে।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে শান্তির সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন আইরিন খান। তিনি সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন, বেসামরিক জনগণের সুরক্ষা নিশ্চিত এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানান।
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের আরও বিস্তার ঠেকানো এবং দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার জন্য সম্মিলিত আন্তর্জাতিক উদ্যোগ প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। বাংলাদেশের বক্তব্যে ফিলিস্তিনিদের অধিকার রক্ষা, মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা এবং আঞ্চলিক সংঘাত নিরসনে জাতিসংঘের কার্যকর ভূমিকার দাবি গুরুত্ব পেয়েছে।
