দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
পার্বত্য চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী সামাজিক উৎসব বিজু ও বিষু শুরু হয়েছে বান্দরবান এর সাঙ্গু নদী তীরে ফুল নিবেদনের মধ্য দিয়ে। রোববার সকালে চাকমা ও তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের নারী পুরুষ ঐতিহ্যবাহী পোশাকে অংশ নেন এ আয়োজনে।
ভোর থেকেই বিভিন্ন বয়সী মানুষ ফুল হাতে নদীর তীরে জড়ো হন। পরে তারা ‘জলবুদ্ধ’ ও ‘মা গঙ্গাদেবী’র উদ্দেশ্যে ফুল নিবেদন করে অতীতের ভুলত্রুটির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং নতুন বছরের জন্য সুখ শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।
উৎসবে অংশ নেওয়া স্থানীয়রা জানান, পুরনো বছরের দুঃখ কষ্ট ভুলে নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর মধ্য দিয়েই এই আয়োজনের মূল তাৎপর্য প্রকাশ পায়। নদীর স্রোতের সঙ্গে সব গ্লানি ভেসে যাক এমন প্রার্থনাই থাকে সবার মনে।
পার্বত্য অঞ্চলের সবচেয়ে বড় এই উৎসব বিভিন্ন সম্প্রদায়ের কাছে ভিন্ন নামে পরিচিত। চাকমাদের কাছে বিজু, মারমাদের কাছে সাংগ্রাইং, ত্রিপুরাদের কাছে বৈসু এবং তঞ্চঙ্গ্যাদের কাছে বিষু নামে উদযাপিত হয়। নাম ভিন্ন হলেও উৎসবের আনন্দ সবার জন্য এক ও অভিন্ন।
উৎসবকে ঘিরে ইতোমধ্যে বান্দরবান, রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি জুড়ে শুরু হয়েছে আনন্দের আমেজ। চলছে ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং ঘরে ঘরে পিঠা প্রস্তুতির আয়োজন। বিশেষ খাবার হিসেবে পাজন তরকারি তৈরি করা হয়, যা বিভিন্ন সবজি দিয়ে রান্না করে অতিথিদের আপ্যায়নে পরিবেশন করা হয়।
চাকমা সম্প্রদায়ের মতে ১২ এপ্রিল ফুল বিজু, ১৩ এপ্রিল মূল বিজু এবং ১৪ এপ্রিল গজ্জ্যাপজ্জ্যা পালিত হয়। এই সময় আত্মীয় স্বজন ও প্রতিবেশীদের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও দৃঢ় হয়।
সংক্ষিপ্ত বিশ্লেষণে দেখা যায়, পার্বত্য অঞ্চলের এই উৎসব শুধু সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য নয়, বরং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সামাজিক বন্ধনের এক অনন্য উদাহরণ।
