দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
বিশ্বের উষ্ণ সমুদ্রগুলোতে একদিকে যেমন অপরূপ সৌন্দর্যের দৃশ্য দেখা যায়, অন্যদিকে লুকিয়ে থাকে ভয়ংকর কিছু সামুদ্রিক প্রাণী। তেমনই একটি বিস্ময়কর কিন্তু বিপজ্জনক প্রাণী হলো ‘পর্তুগিজ ম্যান ও ওয়ার’ (Portuguese man o war), যা সাধারণ জেলিফিশ নয় বরং একাধিক জীবের সমন্বয়ে গঠিত একটি জটিল সাইফোনোফোর।
ন্যাশনাল জিওগ্রাফির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই প্রাণীটির নীলচে বেগুনি রঙের বেলুনের মতো অংশটি পানির ওপর ভাসতে সাহায্য করে এবং বাতাসের মাধ্যমে এটি এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সরে যায়। দেখতে আকর্ষণীয় হলেও এর নিচে থাকা শুঁড়গুলো অত্যন্ত বিপজ্জনক।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রাণীর শুঁড় বা টেন্টাকল প্রায় ৫০ মিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পারে এবং এতে থাকে শক্তিশালী বিষাক্ত কোষ। এগুলোর সংস্পর্শে এলে তীব্র ব্যথা, ত্বকে জ্বালা এবং অনেক ক্ষেত্রে গুরুতর শারীরিক প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। স্মিথসোনিয়ান ইনস্টিটিউশন (Smithsonian Institution) এর তথ্য অনুযায়ী, এর বিষ শিকারকে তাৎক্ষণিকভাবে অবশ করে ফেলতে সক্ষম।
সাম্প্রতিক সময়ে আল জাজিরার পরিবেশ বিষয়ক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তন এবং সমুদ্রের তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে এই প্রাণীগুলো নতুন নতুন উপকূলীয় অঞ্চলেও দেখা যাচ্ছে, যা পর্যটক ও সাঁতারুদের জন্য ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এই প্রাণীটি জীবিত কিংবা মৃত অবস্থায় থাকলেও এর শুঁড় বিষাক্ত থাকতে পারে। ফলে সমুদ্র সৈকতে ভেসে থাকা অবস্থায়ও এটি স্পর্শ করা বিপজ্জনক।
বিশ্বের আটলান্টিক ও ভারত মহাসাগরের বিভিন্ন অঞ্চলে এদের বেশি দেখা যায়। অনেক সময় স্রোত ও বাতাসের কারণে দলবদ্ধভাবে উপকূলের কাছে চলে আসে, যা স্থানীয়দের জন্য হঠাৎ ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
প্রকৃতির এই বিস্ময়কর প্রাণী একই সঙ্গে সৌন্দর্য ও বিপদের প্রতীক। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এর বিস্তার বাড়তে থাকলে উপকূলীয় নিরাপত্তা ও সচেতনতা বাড়ানো জরুরি হয়ে উঠবে।
সূত্র: National Geographic
