লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

দলের শৃঙ্খলায় কঠোর বিএনপি, মিষ্টির পদত্যাগে এই বার্তা স্পষ্ট, আসছে আরও পদক্ষেপ

প্রকাশিত: 02 অক্টোবর 2026

22 Views

The Civilians News

দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।

ক্ষমতায় আসার পর দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে চাঁদাবাজি, দখল, হামলা, ভাঙচুর কিংবা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত হওয়ার অভিযোগে নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিচ্ছে বিএনপি। সাম্প্রতিক সময়ে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির পদত্যাগ, ঢাকার তিনটি গুরুত্বপূর্ণ কমিটি বিলুপ্ত এবং বিভিন্ন পর্যায়ের ১৪ নেতাকে বহিষ্কারের ঘটনা দলটির অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা নিয়ে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় মিষ্টির নাম ওঠার পর প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাকে সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন। মিষ্টি ১ অক্টোবর জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। পরে সংসদ সচিবালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে তার সংরক্ষিত নারী আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। তবে রাড্ডা ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার অভিযোগ মিষ্টি অস্বীকার করেছেন এবং ঘটনাটির তদন্ত এখনো চলছে।

রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ২৫ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে হামলা চালিয়ে চিকিৎসা সরঞ্জাম, ওষুধ ও অন্যান্য সামগ্রী লুট এবং স্থাপনা ভাঙচুরের অভিযোগ রয়েছে। পুলিশের তদন্তে ঘটনাস্থলে দায়িত্ব পালনে গাফিলতির প্রমাণ পাওয়ার পর শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, তদন্তে কারও সম্পৃক্ততার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাড্ডা ঘটনা নিয়ে তদন্ত চলার মধ্যেই ৩০ সেপ্টেম্বর রাতে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনগুলো ঢাকার তিনটি কমিটি বিলুপ্ত করে। এর মধ্যে রয়েছে ৫১ সদস্যের ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি, ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের কমিটি এবং ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের কমিটি। একই সময়ে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের ১৪ নেতাকে বহিষ্কার করা হয়। দলীয় বিজ্ঞপ্তিতে অনৈতিক কর্মকাণ্ড, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং দলবিরোধী কার্যক্রমকে বহিষ্কারের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হলো, কমিটি বিলুপ্ত ও নেতাদের বহিষ্কারের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিতে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলার কথা সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি। ফলে এসব সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের সঙ্গে রাড্ডা ঘটনার সরাসরি যোগসূত্র দলীয় নথিতে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। একই সময়ে স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে ওই ঘটনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগ তদন্তাধীন থাকায় রাজনৈতিক অঙ্গনে দুটি ঘটনার সময়গত সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

রাড্ডা ঘটনার তদন্তে এরই মধ্যে ১২ জনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে পুলিশ। মামলার এজাহারে মিরপুরের স্থানীয় বিএনপি নেতা হানিফ মিয়াসহ দুই শতাধিক অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশের তদন্তে আরও উঠে এসেছে, হামলার সময় ঘটনাস্থলে থাকা সদস্যরা কার্যকরভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছিলেন।

বিএনপির সাম্প্রতিক পদক্ষেপের পর দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে অপরাধ বা অনিয়মের অভিযোগে জড়িতদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে আরও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগে তাকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত না করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। রাড্ডা ঘটনায় মিষ্টির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ক্ষেত্রেও তদন্তের ফলই চূড়ান্তভাবে দায় নির্ধারণ করবে।

দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষার এই উদ্যোগ একই সঙ্গে সরকার পরিচালনার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অপরাধ বা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠলে তা শুধু দলের ভাবমূর্তিই নয়, প্রশাসনের ওপরও জনআস্থার প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। ফলে বিএনপির সাম্প্রতিক সাংগঠনিক সিদ্ধান্তগুলোর পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত এবং আদালতকেন্দ্রিক প্রক্রিয়াও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এখন নজর থাকবে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের তদন্তের পরবর্তী ধাপ, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং বিএনপির নতুন সাংগঠনিক কাঠামো কীভাবে গড়ে ওঠে তার দিকে। একই সঙ্গে দলীয় পরিচয়ের বাইরে গিয়ে অপরাধের দায় ব্যক্তিগতভাবে নির্ধারণের যে নীতি নিয়ে আলোচনা চলছে, বাস্তবে সেটি কতটা কার্যকর হয় সেটিও আগামী দিনের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।

 

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman