দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মহাকাশ স্টার্টআপ জিআরইউ স্পেস ২০৩২ সালের মধ্যে চাঁদে একটি বাণিজ্যিক হোটেল চালুর ঘোষণা দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এটি হবে বিশ্বের প্রথম চন্দ্রভিত্তিক আবাসন প্রকল্প যেখানে সীমিত সংখ্যক পর্যটক নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অবস্থান করতে পারবেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, চাঁদের পৃষ্ঠে বিশেষভাবে তৈরি ইনফ্ল্যাটেবল মডিউল বসানো হবে, যেখানে একসঙ্গে ২ থেকে ৪ জন অতিথি থাকার সুযোগ পাবেন।
জিআরইউ স্পেস জানায়, এই হোটেল মূলত গবেষক, ধনী মহাকাশ পর্যটক এবং ভবিষ্যৎ বাণিজ্যিক মহাকাশ অভিযানের অংশগ্রহণকারীদের লক্ষ্য করে তৈরি করা হচ্ছে। ইনফ্ল্যাটেবল মডিউলগুলো এমনভাবে নকশা করা হবে যাতে চাঁদের নিম্ন মাধ্যাকর্ষণ, তীব্র তাপমাত্রা পরিবর্তন এবং বিকিরণ ঝুঁকি মোকাবিলা করা যায়। কোম্পানির দাবি, এসব মডিউলে জীবনধারণের জন্য প্রয়োজনীয় অক্সিজেন, পানি পুনর্ব্যবহার ব্যবস্থা এবং সুরক্ষা প্রযুক্তি থাকবে।
এই উচ্চাভিলাষী প্রকল্পের সবচেয়ে আলোচিত দিক হলো এর আর্থিক কাঠামো। জিআরইউ স্পেস ইতোমধ্যেই আগ্রহী গ্রাহকদের কাছ থেকে বুকিং নিতে শুরু করেছে। প্রতিটি আসনের জন্য আগাম এক মিলিয়ন মার্কিন ডলার জমা দিতে হবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। যদিও প্রকল্পটি এখনো প্রাথমিক পরিকল্পনা পর্যায়ে রয়েছে, তবু আগ্রহী বিনিয়োগকারী ও সম্ভাব্য পর্যটকদের মধ্যে এটি কৌতূহল তৈরি করেছে।
মহাকাশ বিশ্লেষকদের মতে, চাঁদে হোটেল নির্মাণের পরিকল্পনা প্রযুক্তিগত ও আর্থিক দিক থেকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রে বেসরকারি মহাকাশ উদ্যোগের বিস্তার এবং রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার আলোচনায় কেউ কেউ একে ভবিষ্যতের সম্ভাব্য ‘লুনার রিয়েল এস্টেট’ হিসেবে দেখছেন। এমনকি কৌতুক করে কেউ কেউ প্রশ্ন তুলছেন, ভবিষ্যতে কি এটি কোনো রাজনৈতিক ব্র্যান্ডিংয়ের অংশ হয়ে উঠবে, যেমন একটি ‘ট্রাম্প লুনার হোটেল’।
চাঁদে পর্যটন এখনো কল্পনার কাছাকাছি থাকলেও, জিআরইউ স্পেসের এই ঘোষণা স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে মহাকাশ আর শুধু রাষ্ট্রের একচেটিয়া ক্ষেত্র নয়, এটি দ্রুত বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতার নতুন ময়দানে রূপ নিচ্ছে।
