দ্য সিভিলিয়ানস । আন্তর্জাতিক ডেস্ক ।
জাপানের প্রতিরক্ষা শিল্পে নতুন মাত্রা যোগ করেছে মিতসুবিশি হেভি ইন্ডাস্ট্রিজ। প্রতিষ্ঠানটি সম্প্রতি একটি কনসেপ্ট উন্মোচন করেছে, যেখানে সাধারণ শিপিং কনটেইনারের ভেতরে বসানো হয়েছে ৪৮টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপযোগ্য লঞ্চার। প্রকাশিত ছবিগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, এই সিস্টেম থেকে সুইচব্লেড ৬০০ ধরনের লয়টারিং মিউনিশন নিক্ষেপ করা সম্ভব হতে পারে, যার কার্যকর পাল্লা ৮০ কিলোমিটারের বেশি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই কনটেইনারভিত্তিক লঞ্চার সহজে পরিবহনযোগ্য, দ্রুত মোতায়েনযোগ্য এবং বেসামরিক লজিস্টিক কাঠামোর আড়ালে লুকিয়ে রাখাও সম্ভব। ফলে এটি শত্রুপক্ষের নজর এড়িয়ে আকস্মিক ও ব্যাপক আঘাত হানার সক্ষমতা তৈরি করে।

এই ধারণা শুধু জাপানেই সীমাবদ্ধ নয়। ইউরোপের সামরিক শিল্পেও একই ধরনের প্রবণতা স্পষ্ট হয়ে উঠছে। জার্মান প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান রাইনমেটাল ইতোমধ্যে ২০ ফুটের একটি আইএসও কনটেইনার প্রদর্শন করেছে, যার ভেতরে রয়েছে ১২৬টি লঞ্চ সেল। এই সিস্টেমটি HERO সিরিজের লয়টারিং মিউনিশন উৎক্ষেপণে সক্ষম। পাশাপাশি এটি ছয় ধরনের ভিন্ন ভিন্ন মানববিহীন আকাশযান বা ইউএভি নিক্ষেপ করতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, কনটেইনারভিত্তিক এসব অস্ত্রব্যবস্থা আধুনিক যুদ্ধনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। স্থায়ী ও বড় আকারের লঞ্চ সাইটের পরিবর্তে সেনাবাহিনীগুলো এখন মোবাইল, মডুলার ও কম দৃশ্যমান প্ল্যাটফর্মের দিকে ঝুঁকছে। এতে করে স্বল্প সময়ে বিভিন্ন স্থান থেকে একযোগে হামলা চালানো এবং যুদ্ধক্ষেত্রে শক্তি ছড়িয়ে দেওয়ার সক্ষমতা বাড়বে।
লয়টারিং মিউনিশন ও ড্রোন প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির প্রেক্ষাপটে এমন কনটেইনারভিত্তিক লঞ্চারগুলোকে ভবিষ্যতের যুদ্ধের জন্য তুলনামূলক কম খরচের কিন্তু কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র হিসেবে দেখা হচ্ছে।
