দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার আলীগঞ্জ এলাকায় পদ্মা রেল সংযোগ প্রকল্পের ৮৪ থেকে ৯১ নম্বর পিলারের নিচ ও আশপাশ থেকে মাটি কাটার ঘটনাকে কেন্দ্র করে উদ্বেগ, বিতর্ক এবং প্রশাসনিক তৎপরতা দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওতে দেখা যায়, সেতুর ৮৪ থেকে ৯১ নম্বর পিলারের আশপাশে খননযন্ত্র দিয়ে মাটি সরানো হচ্ছে। স্থানীয়দের একাংশ দাবি করেন, পিলারের নিচ থেকে গভীর করে মাটি কেটে তা ইটভাটায় বিক্রি করা হচ্ছে, যা সেতুর নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কয়েক দিন ধরে দিনরাত মাটি কাটার কাজ চলছিল। কোথাও কোথাও ৮ থেকে ১৫ ফুট গভীর গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির পানি জমে থাকায় অনেকের মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হয় যে এতে সেতুর ভিত্তি দুর্বল হয়ে যেতে পারে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হলে উপজেলা প্রশাসন ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ বন্ধ করে দেয়।
তবে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং রেলওয়ে কর্মকর্তারা ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তাদের দাবি, এটি কোনো অবৈধ মাটি কাটা নয়, বরং প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় তৈরি করা অস্থায়ী ভরাট অপসারণের কাজ। পদ্মা রেল সংযোগ প্রকল্পের কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সেতু নির্মাণের সময় জলাশয় ও নিচু জমির ওপর অস্থায়ী রাস্তা ও কর্মক্ষেত্র তৈরির জন্য বিপুল পরিমাণ মাটি ও বালু ফেলা হয়েছিল। প্রকল্পের চুক্তি অনুযায়ী কাজ শেষ হওয়ার পর ওই এলাকাকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
রেলওয়ের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আবু ইউসুফ মোহাম্মদ শামীম বলেন, প্রকল্পের অংশ হিসেবেই মাটি অপসারণ করা হচ্ছে এবং পুরো কার্যক্রম বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে। তার দাবি, সেতুর পিলার বা কাঠামোর নিরাপত্তার সঙ্গে এই মাটির কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই।
বাংলাদেশ রেলওয়ের পক্ষ থেকেও এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সংশ্লিষ্ট জমি রেলওয়ের অধিগ্রহণকৃত এলাকা। নির্মাণকাজের সুবিধার জন্য ভরাট করা হয়েছিল এবং বর্তমানে পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার লক্ষ্যে সেই ভরাট মাটি সরিয়ে আগের জলাধার ও প্রাকৃতিক অবস্থা ফিরিয়ে আনার কাজ চলছিল।

তবে জেলা প্রশাসনের বক্তব্য হলো, এ ধরনের কাজ শুরু করার আগে স্থানীয় প্রশাসনকে যথাযথভাবে অবহিত করা হয়নি। নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির জানান, প্রকল্প কর্তৃপক্ষের দেওয়া কাগজপত্র তাৎক্ষণিকভাবে সন্তোষজনক না হওয়ায় এবং জনমনে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় আপাতত কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা ও নির্দেশনা পাওয়ার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, মাটি অপসারণ প্রকল্পের চুক্তিরই অংশ এবং এটি আরও আগেই করা উচিত ছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, নির্মাণকাজের সুবিধার জন্য যে কৃত্রিম ভরাট করা হয়েছিল, কাজ শেষ হওয়ার পর তা সরিয়ে ফেলার বাধ্যবাধকতা ছিল। দীর্ঘদিন অপসারণ না হওয়ায় এখন সেটি দেখে সাধারণ মানুষের কাছে স্থায়ী মাটি বলে মনে হচ্ছে এবং সেখান থেকেই বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
বর্তমানে প্রশাসনের নির্দেশে মাটি অপসারণ কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে রেলপথ মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসন এবং প্রকল্প কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয় চলছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রকৌশলগত নিরাপত্তা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র পর্যালোচনার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
