লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

আইনের সীমাবদ্ধতায় অপরাধীদের দীর্ঘদিন আটকে রাখা যায় না: আইজিপি

প্রকাশিত: 05 সেপ্টেম্বর 2026

30 Views

The Civilians News

দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।

মাদক কারবারি ও ছিনতাইকারীদের বারবার গ্রেপ্তার করা হলেও আইনের বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে তাদের দীর্ঘ সময় আটক রাখা সম্ভব হয় না বলে মন্তব্য করেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক মো. আলী হোসেন ফকির। তাঁর দাবি, মুক্তি পাওয়ার পর অনেক অপরাধী আবারও একই ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।

শনিবার রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে কমিউনিটি ব্যাংকের উদ্যোগে আয়োজিত ‘আমার শহর, আমার দেশ, পরিচ্ছন্নতায় বদলে যায় বাংলাদেশ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

আইজিপি বলেন, মাদক ও ছিনতাইয়ের বিরুদ্ধে পুলিশ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। অনেক মাদক কারবারি ও ছিনতাইকারী একাধিকবার পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে আইনের আওতায় এসেছে। কিন্তু আইনের বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে তাদের প্রত্যাশিত সময় পর্যন্ত আটকে রাখা সম্ভব হয় না। ফলে তারা জামিন বা আইনি প্রক্রিয়ায় মুক্ত হয়ে আবারও অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।

বাংলাদেশ পুলিশের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, মো. আলী হোসেন ফকির বর্তমানে পুলিশের ৩২তম মহাপরিদর্শক। তিনি ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে এই দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর আগে তিনি অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শুধু পুলিশের ওপর নির্ভর না করে সাধারণ মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। আইজিপি বলেন, দেশের জনসংখ্যার তুলনায় পুলিশের সংখ্যা কম। ফলে অপরাধ প্রতিরোধ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন।

মাদককে তরুণ প্রজন্মের জন্য বড় হুমকি হিসেবে উল্লেখ করে আলী হোসেন ফকির বলেন, বিভিন্ন ধরনের মাদক আকর্ষণীয় নাম দিয়ে তরুণদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। অনেক সময় এসব মাদককে শক্তিবর্ধক বড়ি বা অন্য কোনো আকর্ষণীয় পণ্যের নামে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। সন্তানদের এ ধরনের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন করতে পরিবারকে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

মাদকাসক্তির ক্ষতিকর প্রভাব শুধু ব্যক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না বলেও মন্তব্য করেন আইজিপি। তাঁর ভাষ্য, পরিবারের একজন সদস্য মাদকে জড়িয়ে পড়লে তার প্রভাব পুরো পরিবারের ওপর পড়ে। দায়িত্ব পালনের সময় মাদকের টাকা না পেয়ে সন্তানকে নিজের বাবার ওপর হামলা করতেও দেখেছেন বলে জানান তিনি।

জনবান্ধব পুলিশিংয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়ে আইজিপি বলেন, পুলিশের কার্যক্রম আরও জনগণমুখী করতে হবে। জনগণের প্রতি পুলিশকে দায়িত্বশীল ও সহানুভূতিশীল আচরণ করতে হবে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের পাশাপাশি নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

সম্প্রতি রাজশাহীতে পুলিশ একাডেমির প্রশিক্ষণ সমাপনী অনুষ্ঠানে আইজিপি বলেছিলেন, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং অপরাধ দমন পুলিশের মৌলিক দায়িত্ব। একই সঙ্গে পেশাদারত্ব, দক্ষতা ও সততার মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জনের ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।

শনিবারের অনুষ্ঠানে রাজধানীর পরিবেশ দূষণ কমাতে বেশি করে গাছ লাগানো এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদারের আহ্বানও জানান আইজিপি। শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইনির্ভর শিক্ষায় সীমাবদ্ধ না রেখে পরিবেশ রক্ষা, পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও স্বেচ্ছাসেবী কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

সড়কে চলাচলের নিয়মকানুন ছোটবেলা থেকেই শিশুদের শেখানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন আইজিপি। তাঁর মতে, সড়ক ব্যবহার ও নিরাপদে রাস্তা পারাপারের বিষয়ে শিশুদের প্রাথমিক পর্যায় থেকেই সচেতন করা গেলে ভবিষ্যতে দুর্ঘটনা কমানো সম্ভব।

কমিউনিটি ব্যাংকের উদ্যোগে আয়োজিত পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচিকে সামাজিক দায়িত্ববোধের একটি উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, পুলিশ ও সাধারণ মানুষ সম্মিলিতভাবে কাজ করলে নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

 

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman