লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

চুয়েটে ভিসিকে ‘লাল কার্ড’, উত্তাল ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ অব্যাহত

প্রকাশিত: 26 সেপ্টেম্বর 2026

29 Views

The Civilians News

দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য পরিবর্তনের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। শনিবার সকাল থেকে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ ও দেয়ালে গ্রাফিতি আঁকার কর্মসূচি পালন করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমের সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রতিবাদে তাঁকে প্রতীকীভাবে ‘লাল কার্ড’ দেখান শিক্ষার্থীরা।

সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার এলাকা থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে মিছিলটি আবার শহীদ মিনার এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা নতুন উপাচার্যের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন দেয়ালেও তাঁদের দাবির পক্ষে গ্রাফিতি আঁকা হয়।

শিক্ষার্থীদের এই কর্মসূচির পেছনে রয়েছে নতুন উপাচার্যের সাম্প্রতিক বক্তব্য। শুক্রবার গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম দাবি করেন, উপাচার্যের পরিবর্তনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে ৩০ থেকে ৩৫ জন শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, অধিকাংশ শিক্ষার্থী ইতিমধ্যে ক্যাম্পাসের তালা খুলে দিয়েছেন এবং তাঁকে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

শনিবার শিক্ষার্থীরা সেই বক্তব্যের প্রতিবাদে প্রতীকী লাল কার্ড প্রদর্শন করেন। তাঁদের দাবি, ক্যাম্পাসের প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে নতুন উপাচার্যের বক্তব্য বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। আন্দোলনকারীরা জানান, সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহাল না করা পর্যন্ত তাঁদের কর্মসূচি চলবে।

যন্ত্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মাহিদুর রহমান ওসমানী বলেন, নতুন উপাচার্য অনলাইনে যোগদান করেছেন। গণমাধ্যমে তাঁর দেওয়া বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন তিনি। শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, এসব কারণেই তাঁরা লাল কার্ড প্রদর্শনের কর্মসূচি নিয়েছেন।

চুয়েটের বর্তমান সংকটের সূত্রপাত ২১ সেপ্টেম্বর। ওই দিন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্যের পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়। অধ্যাপক সায়েম মাত্র ৫৬ দিন দায়িত্ব পালনের পর পদটি হারান।

এই সিদ্ধান্তের পর ওই রাতেই শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ শুরু করেন। পরদিন থেকে তাঁরা ক্লাস, পরীক্ষা ও অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রম বর্জন করে সর্বাত্মক বন্ধ কর্মসূচি শুরু করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকেও তালা দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীরা গণস্বাক্ষর সংগ্রহ, মানববন্ধন ও মশাল মিছিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন।

শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের সংগঠনও। চুয়েট শিক্ষক সমিতি সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবিতে সর্বাত্মক কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছে। তবে আবাসিক হল ও জরুরি সেবাসংক্রান্ত কার্যক্রম চালু রাখার কথা জানিয়েছে সংগঠনটি। কর্মকর্তাদের সংগঠনও শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।

এদিকে নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমের নিয়োগ বাতিল এবং অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলনকারীরা তাঁদের কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। ফলে উপাচার্য পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে চুয়েটের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে যে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে তা এখনো কাটেনি।

 

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman