দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) প্রকল্পের অপারেশন ও রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক দরপত্র প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলের অভিযোগ, দরপত্র আহ্বান ও গ্রহণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও প্রতিযোগিতার ঘাটতি থাকায় জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্প ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
গভীর সমুদ্রে স্থাপিত এসপিএম ব্যবস্থার মাধ্যমে বড় জ্বালানি ট্যাংকার থেকে সরাসরি পাইপলাইনের মাধ্যমে অপরিশোধিত তেল তীরে স্থানান্তর করা সম্ভব হয়। কক্সবাজারের মহেশখালীর দক্ষিণ পশ্চিমে প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই মেগা প্রকল্পের কাজ ২০২৪ সালের আগস্টে শেষ হলেও পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান নিয়োগ জটিলতায় এখনো চালু করা যায়নি।
জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে আহ্বান করা দরপত্রের সময় নির্বাচন করা হয় রাজনৈতিক পরিবর্তনের সংবেদনশীল সময়ে, যা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। প্রথম দফার দরপত্রে প্রস্তাবিত ব্যয় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের অনুমিত ব্যয়ের তুলনায় ৫১ শতাংশ বেশি হওয়ায় তা বাতিল করা হয়। পরে দ্বিতীয় দফা দরপত্র আহ্বান করা হলেও আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণ সীমিত ছিল।
মোট ১১টি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান দরপত্র ক্রয় করলেও শেষ পর্যন্ত মাত্র তিনটি কোম্পানি প্রস্তাব জমা দেয়। নির্বাচনকালীন ভ্রমণ অনিশ্চয়তা, অন অ্যারাইভাল ভিসা স্থগিত এবং সময়সীমা না বাড়ানোর কারণে বিশ্বখ্যাত কয়েকটি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। নেদারল্যান্ডসের আন্তর্জাতিক টার্মিনাল অপারেটর স্মিত ল্যামনালকো এবং মিশরের মেরিডাইভ সময় বাড়ানোর আবেদন করলেও তা গ্রহণ করা হয়নি।
দরপত্রে অংশ নেওয়া ইন্দোনেশিয়ার পার্তামিনা ও চীনের দুটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পূর্ববর্তী প্রকল্পে অনিয়ম ও দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে বলেও সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন। বিশেষ করে এসপিএম পরিচালনায় অভিজ্ঞতার বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
এদিকে নেদারল্যান্ডসের প্রতিষ্ঠান স্মিত ল্যামনালকো প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে দরপত্র প্রক্রিয়ায় অসংগতি তুলে ধরে নতুন করে স্বচ্ছ আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বানের আহ্বান জানিয়েছে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, জনস্বার্থ বিবেচনায় বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে পর্যালোচনা করা হবে এবং কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রকল্পটি দ্রুত চালু না হলে জ্বালানি আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি ও বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে।
