দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি দামের অস্থিরতার মধ্যে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৌদি আরব থেকে জরুরি ভিত্তিতে অতিরিক্ত ডিজেল ও গ্যাসোলিন আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সরকারি সূত্র জানায়, দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির বাইরে গিয়ে প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি তেল কেনা হবে।
জ্বালানি বিভাগ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এর মধ্যে ১ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল এবং ২৫ হাজার মেট্রিক টন গ্যাসোলিন রয়েছে। এই অতিরিক্ত জ্বালানি আমদানিতে সরকারের ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের মাধ্যমে সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠান পেট্রোগ্যাস ইন্টারন্যাশনাল থেকে এসব জ্বালানি সংগ্রহ করা হবে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খলে অনিশ্চয়তার কারণে অনেক দেশই অতিরিক্ত মজুত গড়ে তুলছে। রয়টার্স ও ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আঞ্চলিক সংঘাত ও সরবরাহ বিঘ্নের আশঙ্কায় তেলের বাজারে দাম ওঠানামা করছে এবং আমদানিনির্ভর দেশগুলো দ্রুত বিকল্প উৎস খুঁজছে।
সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলতি মাসে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে ১৭টি জাহাজের জন্য এলসি খোলা হয়েছে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত দেশে পৌঁছেছে চারটি চালান। আরও কয়েকটি চালান সরবরাহের অপেক্ষায় রয়েছে। এপ্রিল মাসের চাহিদা পূরণে ইতোমধ্যে ১৫টি জাহাজের এলসি খোলা হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন, পরিবহন ও শিল্প খাতে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকার এখন দ্রুত মজুত বাড়ানোর কৌশল নিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে ভবিষ্যতে জ্বালানি আমদানিতে ব্যয় আরও বাড়তে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
