দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
দক্ষিণ আফ্রিকার বৃহত্তম শহর জোহানেসবার্গে একটি বস্তি এলাকায় ভয়াবহ বন্দুক হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ৯ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে পুরুষ ও নারী উভয়ই রয়েছেন। হামলার পর থেকে সন্দেহভাজন হামলাকারীদের খুঁজে বের করতে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
পুলিশ জানিয়েছে, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাতের দিকে জোহানেসবার্গের ক্লিভল্যান্ড এলাকায় একটি পেট্রোল স্টেশনের কাছাকাছি ঘটনাটি ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য এবং প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে জানা গেছে, একটি সাদা রঙের যাত্রীবাহী গাড়িতে করে কয়েকজন সশস্ত্র ব্যক্তি ঘটনাস্থলে আসে। পরে তারা বস্তি এলাকার বিভিন্ন অংশে প্রবেশ করে নির্বিচারে গুলিবর্ষণ শুরু করে।
পুলিশের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হামলাকারীরা দুটি পৃথক প্রবেশপথ ব্যবহার করে এলাকায় প্রবেশ করে এবং একাধিক স্থানে অবস্থানরত বাসিন্দাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। হামলা শেষে তারা একই গাড়িতে করে দ্রুত এলাকা ত্যাগ করে। এখন পর্যন্ত কোনো ব্যক্তি বা সংগঠন এই হামলার দায় স্বীকার করেনি।

স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলেই আটজন পুরুষ ও তিনজন নারী নিহত হন। পরে গুরুতর আহত একজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তাদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
হামলার কারণ সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তদন্তকারীরা অপরাধী চক্রের দ্বন্দ্ব, প্রতিশোধমূলক হামলা অথবা স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে বিবেচনা করে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে চূড়ান্ত তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বিশ্বের উচ্চ অপরাধপ্রবণ দেশগুলোর মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকা অন্যতম। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশটিতে প্রতিদিন গড়ে কয়েক ডজন মানুষ সহিংস ঘটনায় প্রাণ হারান। বিশেষ করে দরিদ্র ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় সশস্ত্র সংঘর্ষ, গ্যাং সহিংসতা এবং বন্দুক হামলার ঘটনা দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগের কারণ হয়ে রয়েছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, অবৈধ অস্ত্রের সহজলভ্যতা, বেকারত্ব, দারিদ্র্য এবং সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্রের বিস্তার দেশটির সহিংসতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। সাম্প্রতিক এই হামলা আবারও দক্ষিণ আফ্রিকার জননিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
এদিকে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তার এবং বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় মানবাধিকার কর্মীরা। পুলিশ বলছে, হামলাকারীদের শনাক্ত করতে নজরদারি চিত্র, প্রত্যক্ষদর্শীর তথ্য এবং ফরেনসিক আলামত বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।

সূত্র: রয়টার্স
