লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

২২ বছরের অপেক্ষা শেষ! রয়েল বেঙ্গল টাইগার গর্জে উঠলো বিজয়ের গর্জনে

প্রকাশিত: 18 নভেম্বর 2025

26 Views

The Civilians News

২২ বছরের অপেক্ষা শেষ! রয়েল বেঙ্গল টাইগার গর্জে উঠলো বিজয়ের গর্জনে

দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।

জাতীয় স্টেডিয়ামের ঘড়িতে যখন ৯৪ মিনিট পেরিয়ে গেল এবং ফিলিপাইনের রেফারি শেষ বাঁশি বাজালেন, তখন যেন দুই যুগের কষ্ট একসঙ্গে ধুয়ে গেল লাল-সবুজ এর উল্লাসে। ২২ বছর পর ভারতকে হারাল বাংলাদেশ।

২০২৭ এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের ফিরতি লেগে শেখ মোরসালিনের একমাত্র গোলে ১-০ ব্যবধানের জয় এনে দিল সেই মধুর প্রতিশোধ। ঠিক একই মাঠে, যেখানে ২০০৩ সালে মতিউর মুন্নার গোল্ডেন গোল ভারতের স্বপ্ন ভেঙেছিল।

মাত্র ১১ মিনিটে ম্যাচের ভাগ্য লিখে ফেললেন রাকিব হোসেন আর শেখ মোরসালিন। বাঁ দিক দিয়ে দুর্দান্ত আক্রমণ, ঝড়ো গতির দৌড়, একটা ডিসিভিং নিচু ক্রস, অত্যন্ত নিখুঁত পেশাদারিত্বের সাথে, গুরপ্রীত সিং সান্ধুর দ্বিধা আর মোরসালিনের নিখুঁত প্লেসিং। বল জড়ালো জালে। স্টেডিয়াম তখন ফেটে পড়ল আনন্দে।

এরপর পুরো ম্যাচ বাংলাদেশ খেলেছে একটাই লক্ষ্য নিয়ে, লিড ধরে রাখা। আর এই কাজটাই আগে কখনো পারেনি এ দল, আজ পেরেছে। ৮০ মিনিটের বেশি সময় গোলটা আগলে রেখে শেষ পর্যন্ত হাসি ফোটালো লাল-সবুজ শিবিরে।

হামজা চৌধুরীর অভিষেকের পর এটাই ছিল তার প্রথম জয় বাংলাদেশের জার্সিতে। ৩১ মিনিটে গোললাইন থেকে হেডে বল ঠেকিয়ে যেন তিনি বলে দিলেন, ‘আমি এসেছি দায়িত্ব নিতে।’ তারিক কাজী আহত হলে শাকিল আহাদ, তপু বর্মণ, সাদ উদ্দিনরা গড়ে তুললেন অপ্রতিরোধ্য রক্ষণ প্রাচীর। মিতুল মারমার গ্লাভসেও ছিল জাদু।

গ্রুপে পাঁচ ম্যাচে এটাই বাংলাদেশের প্রথম জয়। ৫ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে উঠে এলো দল। অন্যদিকে একই পয়েন্ট নিয়ে তলানিতে ভারত। শুধু তিন পয়েন্ট নয়, এই জয় পুরো দলকে উদ্দীপিত করেছে। দুই দশকের ‘ভারত-ফোবিয়া’ যেন এক লহমায় ধুলোয় মিশে গেল। বাংলাদেশ ফিরে এলো স্বমহিমায়।

পুরো স্টেডিয়ামে ছিল উৎসব মুখর। রাত আটটার আগেই গ্যালারি কানায় কানায় পূর্ন। বাইরে টিকিটের জন্য হাহাকার। বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচ মানেই আবেগের বিস্ফোরণ। আজ সেই আবেগ রূপ নিল ইতিহাসে।

ম্যাচ শেষে সতীর্থরা হামজাকে কাঁধে তুলে নিলেন। মাঠে শুয়ে পড়লেন অনেকে। আর ভারতীয় খেলোয়াড়রা নিঃশব্দে মাঠ ছেড়ে চলে গেলেন। ২২ বছর পর আবারও প্রমাণ হলো, বাংলাদেশের অদম্য স্পৃহা। রয়েল বেঙ্গল টাইগার গর্জে উঠলো বিজয়ের গর্জনে।

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman