দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
ইউরোপের তিন দেশ ইতালি, গ্রিস ও সাইপ্রাস থেকে ৩৫ বাংলাদেশিকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে একটি বিশেষ প্রত্যাবাসন ফ্লাইটে তাঁরা ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। ফেরত আসা ব্যক্তিদের মধ্যে ইতালি থেকে ১৯ জন, গ্রিস থেকে ১০ জন এবং সাইপ্রাস থেকে ছয়জন রয়েছেন।
ঢাকায় অবস্থিত ইতালি দূতাবাসের এক বার্তায় জানানো হয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সীমান্ত ও উপকূলরক্ষী সংস্থা ফ্রন্টেক্সের ব্যবস্থাপনায় এই প্রত্যাবাসন কার্যক্রম পরিচালিত হয়। ইউরোপের তিন দেশ থেকে বাংলাদেশি নাগরিকদের দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিশেষ ফ্লাইটটি পরিচালনা করা হয়।
দূতাবাসের বার্তায় ইউরোপে অনিয়মিতভাবে প্রবেশ ও অবস্থানের বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও বৈধ অভিবাসনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। যথাযথ ভিসা ও প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়া ইউরোপে যাওয়ার উদ্দেশ্যে মানব পাচারকারী, দালাল কিংবা চোরাকারবারিদের অর্থ দেওয়া থেকে বিরত থাকার পরামর্শও দিয়েছে দূতাবাস।
বার্তায় সতর্ক করে বলা হয়েছে, অবৈধ পথে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টা কিংবা অনুমতি ছাড়া অবস্থানের পরিণতিতে দেশে ফেরত পাঠানো হতে পারে। পাশাপাশি শেনজেনভুক্ত দেশগুলোতে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিও রয়েছে। তবে প্রত্যাবাসিত ৩৫ জনের প্রত্যেকের ক্ষেত্রে কী কারণে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর ফেরত আসা বাংলাদেশিদের সহায়তায় কাজ করেছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের অভিবাসন কর্মসূচি। বিমান চলাচল নিরাপত্তা বিভাগ ও প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের সহযোগিতায় তাঁদের জরুরি সহায়তা, পরামর্শ এবং নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছানোর জন্য আর্থিক সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ব্র্যাকের যৌথ অর্থায়নে পরিচালিত প্রত্যাশা-২ প্রকল্পের আওতায় ফেরত আসা ব্যক্তিদের পুনর্বাসন ও সমাজে পুনরেকত্রীকরণের সহায়তা দেওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে পরামর্শ, প্রশিক্ষণ এবং জীবিকা পুনর্গঠনে আর্থিক সহায়তার বিষয়ও রয়েছে।
বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে ২০১৭ সালে অনিয়মিতভাবে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের দেশে ফেরানোর বিষয়ে একটি কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করা হয়। সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়ায় নাগরিকত্ব যাচাই এবং প্রয়োজনীয় আইনগত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পর প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা করা হয়। ব্র্যাকের অভিবাসন কর্মসূচির তথ্য অনুযায়ী, ওই ব্যবস্থার আওতায় এ পর্যন্ত প্রায় পাঁচ হাজার বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন।
ইউরোপে যাওয়ার ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ ও অনিয়মিত পথ বেছে নেওয়ার কারণে অনেক বাংলাদেশি আর্থিক ক্ষতি, মানব পাচার এবং আইনি জটিলতার মুখে পড়েন। তাই বিদেশে কাজ বা বসবাসের পরিকল্পনা করার আগে সংশ্লিষ্ট দেশের বৈধ ভিসা, কাজের অনুমতি ও অভিবাসনসংক্রান্ত নিয়ম যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
