দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া পঞ্চগড়-১ আসনের প্রার্থী সরজিস আলমের হলফনামা ও আয়কর রিটার্নে বড় ধরনের তথ্যগত অসামঞ্জস্যের অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
মঙ্গলবার রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দুদকের মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) মো. আক্তার হোসেন বলেন, পঞ্চগড়-১ আসনের প্রার্থী সরজিস আলমের হলফনামা ও সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই করা হবে। বস্তুনিষ্ঠ ও নির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে দুদক প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেবে।
ডেইলি স্টারের (বাংলা) এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এই প্রার্থীর ঘোষিত আয়ের সঙ্গে আয়কর রিটার্নে দেখানো আয়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। ২৭ বছর বয়সী সরজিস আলম নিজেকে ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দিয়ে হলফনামায় বার্ষিক ব্যবসায়িক আয় দেখিয়েছেন ৯ লাখ টাকা। অথচ ২০২৫-২৬ করবর্ষের আয়কর রিটার্নে তার আয় উল্লেখ করা হয়েছে ২৮ লাখ ৫ হাজার টাকা, যা হলফনামায় ঘোষিত আয়ের তিনগুণেরও বেশি।
সম্পদের হিসাবেও গরমিলের অভিযোগ উঠেছে। আয়কর রিটার্ন অনুযায়ী তার মোট সম্পদের পরিমাণ ৩৩ লাখ ৭৩ হাজার টাকা। অন্যদিকে হলফনামায় অস্থাবর সম্পদ দেখানো হয়েছে প্রায় ৫ লাখ ৬১ হাজার টাকা এবং স্থাবর সম্পদ হিসেবে ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ কৃষিজমি, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৫ লাখ টাকা।
নির্বাচনী ব্যয়ের বিবরণীতে চারজন শুভাকাঙ্ক্ষীর কাছ থেকে ১১ লাখ টাকা উপহার পাওয়ার আশার কথা উল্লেখ করেছেন সরজিস আলম। এছাড়া বিভিন্ন আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে উপহার ও ঋণ হিসেবে অর্থ পাওয়ার তথ্যও নথিতে রয়েছে। এসব তথ্যের সত্যতা ও সামঞ্জস্যতা নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠেছে, যা নিয়ে নির্বাচন কমিশন ও দুদকের ভূমিকার দিকে নজর রাখছে সংশ্লিষ্ট মহল।
