লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

কেরানীগঞ্জে এলপি গ্যাসের দামে নৈরাজ্য, ১২ কেজির সিলিন্ডার ২১০০ টাকায়

প্রকাশিত: 02 জানুয়ারী 2026

22 Views

The Civilians News

দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।

ঢাকার কেরানীগঞ্জে এলপি গ্যাসের বাজার কার্যত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। সরকারি ও কোম্পানি নির্ধারিত দাম উপেক্ষা করে খুচরা পর্যায়ে ইচ্ছেমতো মূল্য বাড়ানো হচ্ছে। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে ১২ কেজির একটি গ্যাস সিলিন্ডারের দাম ১২০০ টাকা থেকে বেড়ে ২০০০ থেকে ২১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

রান্নার মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় জ্বালানির এমন লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ। অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে ধার বা বিকল্প উপায়ে রান্নার ব্যবস্থা করতে চেষ্টা করছে।

সরেজমিনে কেরানীগঞ্জের আটি বাজার, কলাতিয়া, রোহিতপুর, হাসনাবাদ, আগানগর, কালিন্দী, জিঞ্জিরা ও শুভাঢ্যা এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, একই কোম্পানির গ্যাস সিলিন্ডার একেক দোকানে একেক দামে বিক্রি হচ্ছে। কোথাও ১৯৫০ টাকা, আবার পাশের দোকানেই ২১০০ টাকা। অধিকাংশ দোকানে কোনো মূল্য তালিকা নেই। দাম জানতে চাইলে অনেক বিক্রেতাই সাফ জানিয়ে দিচ্ছেন, নিতে হলে এই দামেই নিতে হবে।

খুচরা বিক্রেতারা দায় চাপাচ্ছেন ডিলার ও পরিবেশকদের ওপর। তাঁদের দাবি, বেশি দামে কিনতে হওয়ায় বাধ্য হয়েই দাম বাড়ানো হচ্ছে। তবে স্থানীয় ভোক্তাদের অভিযোগ, এটি স্বাভাবিক সংকট নয় বরং কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দাম বাড়ানো হচ্ছে। প্রায় সব এলাকায় একই সময়ে গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়া এবং সরবরাহ কমে যাওয়াকে তারা পরিকল্পিত কারসাজি বলেই মনে করছেন।

কেরানীগঞ্জের শাক্তা ইউনিয়নের হিজলা স্কুল এলাকার সজল স্টোরের মালিক সমশের আলি বলেন, এখন কোনো ডিলারের কাছেই নিয়মিত গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। গ্যাস চাইলে সরাসরি বলা হচ্ছে, নেই।

এদিকে কেরানীগঞ্জ এলপি গ্যাস ডিলার সমিতির সভাপতি নুর আলম আখি বলেন, আমদানিজনিত সংকটের কারণে কোম্পানিগুলো চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস দিতে পারছে না। আগে যেখানে একটি ডিলার ৮ হাজার বোতল পেতেন, সেখানে এখন মিলছে ২৫০০ থেকে ৩০০০ বোতল। তবে তাঁর দাবি, খুচরা পর্যায়ে অতিরিক্ত লাভের কারণেই বাজার আরও অস্থির হয়ে উঠেছে।

বসুন্ধরা এলপি গ্যাসের ডেপুটি ম্যানেজার রুকুনুজ্জামান জানান, গত প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। শীত মৌসুমে চাহিদা বেড়েছে, পাশাপাশি আমদানিতে জটিলতা তৈরি হওয়ায় সংকট গভীর হয়েছে।

কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. উমর ফারুক বলেন, গ্যাসের দাম বাড়িয়ে জনভোগান্তির অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে এবং শিগগিরই মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সচেতন মহলের মতে, নিয়মিত বাজার মনিটরিং ও কঠোর অভিযান ছাড়া এই নৈরাজ্য বন্ধ করা সম্ভব নয়। দ্রুত সিন্ডিকেট ভেঙে সরকার নির্ধারিত দামে গ্যাস বিক্রি নিশ্চিত না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman