লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

সীমান্তে পুশইন শঙ্কা, বিজিবির সঙ্গে পাহারায় নেমেছেন গ্রামবাসী

প্রকাশিত: 05 জুন 2026

1 Views

The Civilians News

দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।

ভারত থেকে সম্ভাব্য জোরপূর্বক অনুপ্রবেশ বা পুশইনের আশঙ্কাকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে মেহেরপুর সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকার পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও স্বেচ্ছায় সীমান্ত পাহারায় অংশ নিয়েছেন। ফলে সীমান্তজুড়ে একটি সমন্বিত নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্টে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর পুশইনের চেষ্টার অভিযোগ ওঠার পর সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। মেহেরপুর জেলার তিন দিকজুড়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে প্রায় ৮৬ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। এই দীর্ঘ সীমান্তের ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলোতে বিজিবির টহল ও নজরদারি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে।

সীমান্ত এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, দায়িত্বপ্রাপ্ত বিজিবি সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয় গ্রামবাসীরাও লাঠিসোঁটা, বাঁশি, টর্চলাইট ও অন্যান্য সরঞ্জাম নিয়ে রাতভর পাহারায় অংশ নিচ্ছেন। সীমান্তে কোনো ধরনের সন্দেহজনক তৎপরতা দেখা গেলে দ্রুত বিজিবিকে অবহিত করার জন্য স্থানীয়দের মধ্যে সচেতনতা কার্যক্রমও পরিচালনা করা হচ্ছে।

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, সীমান্তের কিছু এলাকায় পুশইনের আশঙ্কা দেখা দিলে অতিরিক্ত টহল, পর্যবেক্ষণ ও গোয়েন্দা নজরদারি চালানো হয়। সীমান্তের কাঁটাতারসংলগ্ন এলাকায় বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে। একই সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, আনসার এবং অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের আওতাধীন সীমান্ত এলাকায় একাধিক বর্ডার আউটপোস্ট থেকে নিয়মিত টহল পরিচালিত হচ্ছে। দিন ও রাত উভয় সময়েই নজরদারি অব্যাহত রাখা হয়েছে। আধুনিক পর্যবেক্ষণ সরঞ্জাম ব্যবহারের পাশাপাশি সীমান্তবর্তী জনগণের সহায়তাও নেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার দায়িত্ব শুধু বাহিনীর নয়, সাধারণ নাগরিকদেরও রয়েছে। এ কারণে তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে সীমান্ত পাহারায় অংশ নিচ্ছেন। সীমান্তবর্তী বিভিন্ন গ্রামের মানুষ জানিয়েছেন, যেকোনো অবৈধ অনুপ্রবেশ বা চোরাচালান প্রতিরোধে তারা বিজিবির পাশে থাকবেন।

বিজিবির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাহিনী সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিবেশী দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সঙ্গে পেশাদার ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত সুরক্ষার প্রশ্নে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না বলেও তারা উল্লেখ করেছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থায় স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ নিরাপত্তা বলয়কে আরও শক্তিশালী করতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কূটনৈতিক যোগাযোগ, তথ্য আদানপ্রদান এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনার সমন্বিত উদ্যোগও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

 

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman