বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি সাফ জানিয়ে দিয়েছে, বাংলাদেশকে ভারতের মাটিতেই খেলতে হবে। ক্রিকেট বিষয়ক নির্ভরযোগ্য ওয়েবসাইট ‘ইএসপিএনক্রিকইনফো’-এর প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ইএসপিএনক্রিকইনফোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার ভার্চুয়াল কলে আইসিসি জানিয়ে দেয় যে নিরাপত্তাজনিত কারণে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারতের বাইরে সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ তারা প্রত্যাখ্যান করেছে।
একইসঙ্গে আইসিসি বিসিবিকে জানায়, বাংলাদেশকে অবশ্যই ভারতে এসে খেলতে হবে, নচেৎ পয়েন্ট হারানোর ঝুঁকি থাকবে।
তবে বিসিবির দাবি, আইসিসির পক্ষ থেকে তাদের এমন কোনো আলটিমেটাম জানানো হয়নি।
এ বিষয়ে এখনো পর্যন্ত বিসিসিআই কিংবা বিসিবি- কোনো পক্ষই মঙ্গলবারের বৈঠকের ফলাফল নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেয়নি।
গত রোববার (০৪ ডিসেম্বর) বিসিবি আইসিসিকে চিঠি দিয়ে নিরাপত্তা বিবেচনায় বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারতের বাইরে আয়োজনের বিষয়টি ‘বিবেচনা’ করার অনুরোধ জানিয়েছিল। সেই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতেই আইসিসি এই বৈঠকের আয়োজন করে।
আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত ভারত ও শ্রীলঙ্কায় যৌথ ভাবে অনুষ্ঠিত হবে ২০ দলের পুরুষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। গ্রুপ ‘সি’-তে থাকা বাংলাদেশ তাদের প্রথম তিনটি ম্যাচ খেলবে কলকাতায়- ৭ ফেব্রুয়ারি ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে, ৯ ফেব্রুয়ারি ইতালির বিপক্ষে এবং ১৪ ফেব্রুয়ারি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। গ্রুপ পর্বে তাদের শেষ ম্যাচ ১৭ ফেব্রুয়ারি মুম্বাইয়ে নেপালের বিপক্ষে।
বিসিবির আইসিসিকে চিঠি দেওয়ার পেছনে মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে বাংলাদেশের পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে নিয়ে বিতর্ক। গত ডিসেম্বরের আইপিএল নিলামে কলকাতা নাইট রাইডার্স ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে মোস্তাফিজুরকে দলে নিলেও পরে বিসিসিআই ফ্র্যাঞ্চাইজিটিকে তাকে ছেড়ে দিতে ‘নির্দেশ’ দেয়।
বিসিসিআইয়ের এই সিদ্ধান্ত গণমাধ্যমকে জানান সংস্থাটির সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া। তবে কেন কেকেআরকে মোস্তাফিজুরকে ছাড়তে বলা হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি কোনো ব্যাখ্যা দেননি। জানা গেছে, বিষয়টি নিয়ে আইপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের কোনো বৈঠকও হয়নি, ফলে সাইকিয়া ছাড়া আর কারা এই সিদ্ধান্তে জড়িত ছিলেন- তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
সব মিলিয়ে বিশ্বকাপ শুরুর ঠিক এক মাস আগে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ ও নিরাপত্তা ইস্যু ঘিরে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে, যা ক্রিকেট মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
