লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

নীল অর্থনীতির নতুন দিগন্ত: বিশ্ব হাইড্রোগ্রাফি দিবস ২০২৬

প্রকাশিত: 22 জুন 2026

11 Views

The Civilians News

দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।

‘বিশ্ব হাইড্রোগ্রাফি দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে দেশে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে দিবসটি পালিত হয়েছে। এ বছরের প্রতিপাদ্য ছিল, ‘সমুদ্রতথ্য বিনিময়ের ধরন বদলে দেওয়া’, যার মূল লক্ষ্য আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে সমুদ্রসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিনিময় ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও সহজলভ্য করা।

সোমবার আয়োজিত অনুষ্ঠানে সমুদ্রসম্পদ ব্যবস্থাপনা, নৌপরিবহন নিরাপত্তা, সামুদ্রিক গবেষণা এবং টেকসই নীল অর্থনীতি গঠনে হাইড্রোগ্রাফিক তথ্যের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। বক্তারা বলেন, সঠিক ও হালনাগাদ সমুদ্রতথ্য নিরাপদ নৌচলাচল নিশ্চিত করার পাশাপাশি সামুদ্রিক সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার এবং পরিবেশ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

অনুষ্ঠানে দেশের সামুদ্রিক অঞ্চলে জরিপ কার্যক্রম সম্প্রসারণ, ডিজিটাল নৌচার্ট প্রণয়ন এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী তথ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের বিষয়েও আলোচনা করা হয়। বিশেষজ্ঞরা বলেন, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর মাধ্যমে সমুদ্রতথ্য আরও দ্রুত ও নির্ভুলভাবে সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে, যা জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।

বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, জলবায়ু পরিবর্তন, উপকূলীয় ঝুঁকি মোকাবিলা এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় নির্ভরযোগ্য হাইড্রোগ্রাফিক তথ্যের গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। সমুদ্রবন্দর পরিচালনা, মৎস্যসম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং সামুদ্রিক অবকাঠামো উন্নয়নেও এসব তথ্য অপরিহার্য।

আন্তর্জাতিক হাইড্রোগ্রাফিক সংস্থা ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দিবসটি পালন করা হচ্ছে। সংস্থাটি বর্তমানে বৈশ্বিক সমুদ্র জরিপ, নৌচলাচল নিরাপত্তা এবং সমুদ্রতথ্যের মানোন্নয়নে কাজ করছে। বাংলাদেশও দীর্ঘদিন ধরে সংস্থাটির কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করতে সমুদ্রবিষয়ক গবেষণা, জরিপ এবং তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক সম্ভাবনা কাজে লাগাতে নির্ভুল সমুদ্রতথ্য সংগ্রহ ও বিনিময়ের সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সমুদ্রসম্পদ ব্যবহারে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং তথ্য বিনিময়ের সংস্কৃতি জোরদার করা গেলে নিরাপদ নৌপরিবহন, পরিবেশ সুরক্ষা এবং টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে। এ লক্ষ্য অর্জনে সরকারি প্রতিষ্ঠান, গবেষণা সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের মধ্যে সমন্বয় আরও বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের যুগে সমুদ্রতথ্যের ডিজিটাল রূপান্তর কেবল প্রযুক্তিগত উন্নয়ন নয়, বরং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অন্যতম প্রধান ভিত্তি হয়ে উঠছে।

 

সূত্রঃ আইএসপিআর

 

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman