লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

‘বড় ভাই’ বদলেছে, কিশোর গ্যাংয়ের দাপট কমেনি

প্রকাশিত: 03 অক্টোবর 2026

17 Views

The Civilians News

দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।

চট্টগ্রাম নগরে কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য নতুন রূপ নিচ্ছে। রাজনৈতিক ক্ষমতার পালাবদলের পর আগে যেসব স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তির আশ্রয়ে এসব গোষ্ঠীর সদস্যরা চলাফেরা করত তাদের একটি অংশ এখন নতুন রাজনৈতিক পরিচয়ধারী নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করছে বলে পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য। ফলে পৃষ্ঠপোষক বদলালেও অস্ত্র, মাদক, চাঁদাবাজি, দখল ও সংঘাতের অভিযোগ থেকে মুক্তি মিলছে না নগরবাসীর।

সাম্প্রতিক একাধিক ঘটনায় বিষয়টি আবার সামনে এসেছে। গত ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে খুলশীর পাহাড়তলী ওয়্যারলেস কলোনিতে ১৬ বছর বয়সী মো. হৃদয়কে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় পুলিশ কিশোর গ্যাংয়ের দুই পক্ষের বিরোধের বিষয়টি সামনে এনেছে। পুলিশ জানিয়েছে, হৃদয় সবজি বিক্রি করত। এ ঘটনায় কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে মাদক ব্যবসা ও রাস্তার অবৈধ দোকান নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে বিরোধের কথাও উঠে এসেছে।

চট্টগ্রাম নগর পুলিশের হিসাবে গত সাড়ে সাত বছরে কিশোর গ্যাংয়ের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে অন্তত ৬৩৫টি অপরাধে। এর মধ্যে হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা ৩৯টি। নগরের অন্তত ৪৫টি এলাকায় এসব গোষ্ঠীর তৎপরতার কথা জানিয়েছে পুলিশ। ২০২৪ সালের পুলিশি হিসাব অনুযায়ী নগরে প্রায় ২০০টি কিশোর গ্যাংয়ে প্রায় ১ হাজার ৪০০ সদস্য সক্রিয় ছিল এবং ৬৪ জনকে তাদের পৃষ্ঠপোষক বা ‘বড় ভাই’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল।

গত আগস্টের পর পুরোনো রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকদের অনেকেই আড়ালে চলে গেলেও গ্যাংগুলোর সদস্যদের বড় অংশ এলাকায় থেকে যায় বলে স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য। নতুন রাজনৈতিক যোগাযোগ তৈরির অভিযোগও উঠেছে কয়েকজনের বিরুদ্ধে। তবে যাদের নাম বিভিন্ন অভিযোগে এসেছে তাদের কারও কারও রাজনৈতিক সংগঠন সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেছে। ফলে রাজনৈতিক আশ্রয়ের অভিযোগগুলোর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য ও তদন্তের ফল আলাদাভাবে বিবেচনা করা জরুরি।

কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে মাদক ব্যবসার যোগসূত্রও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় চলতি বছরের জুলাইয়ে একটি মাদক চক্রের বিরুদ্ধে চাঁদা না দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে একটি প্রতিষ্ঠানে অস্ত্রধারী হামলার ঘটনায় পুলিশ কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের সংশ্লিষ্টতার সন্দেহ প্রকাশ করেছিল। ওই ঘটনায় বিপুলসংখ্যক অস্ত্রধারী ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানে ঢুকে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানোর অভিযোগ ওঠে।

সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে চট্টগ্রাম জেলার ১৭টি থানা এলাকায় কিশোর অপরাধবিরোধী বিশেষ অভিযানে ৩৫৪ কিশোরসহ ৪৪৫ জনকে আটক করে পুলিশ। যাচাই শেষে ২৯৩ কিশোরকে অভিভাবকের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। অপর ৬১ জনের বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে অপরাধে সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়ার দাবি করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

তবে কেবল অভিযান চালিয়ে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয় বলে মনে করছেন শিশু সুরক্ষা বিশেষজ্ঞরা। ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও শোষণের ঝুঁকি এখনো বড়। ২০২৫ সালের জরিপে এক থেকে ১৪ বছর বয়সী ৮৫ দশমিক ৭ শতাংশ শিশু গত এক মাসে কোনো না কোনো ধরনের সহিংস শাসনের অভিজ্ঞতার কথা উঠে এসেছে। একই সঙ্গে কিশোরদের বিচার ব্যবস্থায় ২৩ হাজারের বেশি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কিশোর গ্যাং দমনে গ্রেপ্তার ও অভিযান প্রয়োজন হলেও একই সঙ্গে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় সমাজ, শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং মাদকবিরোধী কার্যক্রমকে সমন্বিতভাবে শক্তিশালী করা জরুরি। অপরাধে কিশোরদের ব্যবহারকারী প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি ও পৃষ্ঠপোষকদের শনাক্ত করাও গুরুত্বপূর্ণ। নইলে একজন ‘বড় ভাই’ আড়ালে গেলেও তার জায়গা অন্য কেউ নেবে আর কিশোরদের হাতেই থেকে যাবে অপরাধের বোঝা।

সূত্র : প্রথম আলো

 

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman