দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
দেশে বিনিয়োগের জন্য ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে আইনের শাসন সবার জন্য সমভাবে প্রয়োগ, মানবাধিকার সুরক্ষা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে তিন দিনব্যাপী পঞ্চম বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। আয়োজক সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের তথ্য অনুযায়ী, ৩ থেকে ৫ অক্টোবরের এ আন্তর্জাতিক সংলাপে শতাধিক দেশের রাজনীতিক, কূটনীতিক, নীতিনির্ধারক, ব্যবসায়ী, গবেষক, সাংবাদিক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, শক্তিশালী গ্রামীণ অর্থনীতি একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশের ভিত্তি। বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ তৈরির পাশাপাশি সরকার অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, নীতির ধারাবাহিকতা ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারকে গুরুত্ব দিচ্ছে।
তিনি জানান, জনগণের দেওয়া ম্যান্ডেট বাস্তবায়নে সরকারের পাঁচ বছর মেয়াদি কর্মপরিকল্পনা রয়েছে। জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষা, নীতিমালার ধারাবাহিকতা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারকে এই পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তাঁর ভাষায়, সরকার এখন প্রতিশ্রুতি থেকে বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
সামাজিক সুরক্ষা ও জনসেবা সহজ করার ক্ষেত্রেও কয়েকটি কর্মসূচির কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। পরিবার কার্ড, কৃষক কার্ড ও স্বাস্থ্য কার্ডের মাধ্যমে নাগরিকদের কাছে সরকারি সহায়তা ও সেবা আরও সহজে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। ভবিষ্যতে একটি সমন্বিত কার্ডের মাধ্যমে বিভিন্ন সরকারি সেবা এক কাঠামোর আওতায় আনার পরিকল্পনাও রয়েছে।
পরিবার কার্ড কর্মসূচি এরই মধ্যে চালু হয়েছে। মার্চে প্রধানমন্ত্রী কর্মসূচিটির উদ্বোধন করেন এবং প্রাথমিক পর্যায়ে নির্বাচিত পরিবারগুলোকে মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, কর্মসূচিটির লক্ষ্য পরিবারকে সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আনা এবং বিশেষ করে নারীকে পরিবারের অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে আরও কার্যকর ভূমিকা দেওয়ার সুযোগ তৈরি করা।
বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনের এবারের মূল প্রতিপাদ্য বিশ্বব্যবস্থায় ক্ষমতার পরিবর্তন, প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতি এবং আস্থার সংকটকে কেন্দ্র করে। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, এবারের আলোচনায় ভূরাজনীতি, নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক সংযোগ, প্রযুক্তি, জলবায়ু, গণতন্ত্র ও সুশাসনের মতো বিষয় গুরুত্ব পাবে।
তিন দিনের এই সংলাপে শতাধিক দেশের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি প্রায় ২০০ বক্তা অংশ নিচ্ছেন। আলোচনায় সাবেক রাষ্ট্রপ্রধান, সাবেক সরকারপ্রধান, মন্ত্রী, কূটনীতিক, সামরিক ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ, ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী, শিক্ষাবিদ, গবেষক ও প্রযুক্তিবিদদের অংশগ্রহণ রয়েছে। সার্বিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বরিস তাদিচ, মালদ্বীপের সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ নাশিদ এবং মালির সাবেক প্রধানমন্ত্রী মুসা মারার মতো ব্যক্তিরাও এতে অংশ নিচ্ছেন।
আয়োজকদের মতে, বঙ্গোপসাগর এখন শুধু ভৌগোলিক অঞ্চল নয়। সামুদ্রিক নিরাপত্তা, বাণিজ্য, জ্বালানি, যোগাযোগ, জলবায়ু পরিবর্তন, প্রযুক্তি ও আঞ্চলিক ভূরাজনীতির কারণে অঞ্চলটি আন্তর্জাতিক আলোচনায় ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। সেই বাস্তবতায় ঢাকায় আয়োজিত এই সংলাপে আঞ্চলিক সহযোগিতা ও বৈশ্বিক পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।
