লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...

৩০ দিনের মধ্যে আপিল না করায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হাসিনার আপিলের সুযোগ নেই: প্রধান প্রসিকিউটর

প্রকাশিত: 07 সেপ্টেম্বর 2026

28 Views

The Civilians News

দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও ভারতে আশ্রিত শেখ হাসিনা নির্ধারিত ৩০ দিনের মধ্যে আপিল না করায় এখন আর তাঁর আপিলের সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

সোমবার দুপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের আওতায় কোনো দণ্ডিত ব্যক্তি রায় ও সাজা ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে পারেন। ওই সময়সীমা পার হয়ে গেলে আইনের স্বাভাবিক বিধানে আর আপিল করা যায় না।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গত বছরের নভেম্বরে শেখ হাসিনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় মৃত্যুদণ্ড দেন। একই মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। ট্রাইব্যুনালের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর আপিলের ৩০ দিনের সময়সীমা কার্যকর হয়। পরবর্তী সময়ে ওই সময়সীমা শেষ হলেও শেখ হাসিনা আপিল করেননি।

আইনের ২১ ধারায় বলা হয়েছে, ট্রাইব্যুনালে দণ্ডিত কোনো ব্যক্তি দণ্ড ও সাজা ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল করতে পারবেন। একই ধারায় বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার পর আর আপিল গ্রহণযোগ্য হবে না। আপিল দায়ের হলে তা ৬০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তির বিধানও রয়েছে।

তবে শেখ হাসিনার ক্ষেত্রে আপিলের প্রশ্নটি শুরু থেকেই আরও জটিল ছিল। তিনি বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন এবং ট্রাইব্যুনালের রায় তাঁর অনুপস্থিতিতে হয়েছে। এর আগে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন থেকে বলা হয়েছিল, পলাতক অবস্থায় থাকা কোনো দণ্ডিত ব্যক্তি আপিল করতে চাইলে তাঁকে আত্মসমর্পণ অথবা গ্রেপ্তার হয়ে আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় আসতে হবে।

প্রধান প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম এর আগেও জানিয়েছিলেন, ৩০ দিনের মধ্যে আপিল না করায় শেখ হাসিনার আইনগত আপিলের অধিকার হারিয়েছে। একই সঙ্গে তিনি বলেছিলেন, নির্ধারিত সময়ের পরে কোনো আবেদন গ্রহণ করা হবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়ার এখতিয়ার সুপ্রিম কোর্টের।

এদিকে ট্রাইব্যুনালে দণ্ডিত আসামিদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার বিষয়েও কথা বলেছেন প্রধান প্রসিকিউটর। ট্রাইব্যুনালের রায়ে যেসব আসামির সম্পদ বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সেগুলো কোন প্রক্রিয়ায় জব্দ করা হবে তা নিয়ে পর্যালোচনা চলছে বলে জানান তিনি।

শেখ হাসিনার মামলায় ট্রাইব্যুনাল তাঁর দেশীয় সম্পদ বাজেয়াপ্তেরও নির্দেশ দিয়েছিল। রায়ের পর এসব সম্পদের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে পরবর্তী আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে।

অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে আটকের সময় নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, কাউকে গ্রেপ্তার দেখানো ছাড়া এবং আইনি লড়াইয়ের সুযোগ না দিয়ে ২৪ ঘণ্টার বেশি আটক রাখা হলে অতিরিক্ত সময়টি গুম হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

সাম্প্রতিক সময়ে সংসদে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকারসংক্রান্ত নতুন আইন পাস হয়েছে। আইনে জোরপূর্বক গুমকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে এবং নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।

প্রধান প্রসিকিউটর বলেন, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকারসংক্রান্ত নতুন আইনের সঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আইনের কোনো অসংগতি তৈরি হবে না। দেশে গুমের যেসব অভিযোগ রয়েছে, সেগুলো যাচাই-বাছাই করে কোন অভিযোগ ট্রাইব্যুনালে বিচারযোগ্য এবং কোনটি অন্য আইনি প্রক্রিয়ায় যাবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এর আগে আমিনুল ইসলাম জানিয়েছিলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ইতোমধ্যে গুমের অভিযোগকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে তদন্ত করছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন ঘটনার মধ্যে অভিন্ন ধরন ও একই ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ থাকায় এসব ঘটনাকে ব্যাপক ও পদ্ধতিগত হামলার অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

 

আরও পড়ুন

Editor & Publisher : Khondaker Azizur Rahman