দ্য সিভিলিয়ানস । নিউজ ডেস্ক ।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে দেশটির রাজনীতিতে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। মন্তব্যটির প্রতিবাদে সোমবার (২৬ অক্টোবর) দেশজুড়ে বিক্ষোভ করেছে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। খাড়গের পদত্যাগ ও প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছে দলটি।
নয়াদিল্লি, মুম্বাই, পাটনা, রাঁচি, কলকাতা, জম্মু ও বেঙ্গালুরুর মতো বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। কোথাও মিছিল ও সমাবেশ করা হয়, আবার কোথাও খাড়গের কুশপুত্তলিকা ও পোস্টার পোড়ান বিজেপির নেতা-কর্মীরা। বেঙ্গালুরুর ফ্রিডম পার্কেও প্রতিবাদ সমাবেশ হয়।
রোববার বিহারের রাজধানী পাটনায় এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় বিতর্কিত মন্তব্যটি করেন খাড়গে। বিহারের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী শ্রীকৃষ্ণ সিংয়ের ১৩৯তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার একপর্যায়ে দর্শকসারির এক ব্যক্তি বলেন, মোদি কোথাও যাবেন না। এর জবাবে খাড়গে বলেন, ‘মোদি কা বাপ ভি যায়েগা’।
মন্তব্যটি প্রকাশ্যে আসার পরপরই বিজেপির নেতারা এর সমালোচনা শুরু করেন। দলটির নেতাদের দাবি, ভারতের প্রধানমন্ত্রীর প্রয়াত বাবাকে নিয়ে এ ধরনের মন্তব্য অশোভন এবং রাজনৈতিক শিষ্টাচারের পরিপন্থী।
তবে ঘটনাটির প্রেক্ষাপট নিয়ে কংগ্রেসের পক্ষ থেকেও ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। দলটির বক্তব্য অনুযায়ী, অনুষ্ঠানে উপস্থিত এক ব্যক্তি প্রথমে খাড়গের প্রয়াত বাবাকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছিলেন। কংগ্রেসের দাবি, খাড়গের বক্তব্যের একটি অংশকে আলাদা করে উপস্থাপন করা হচ্ছে। ফলে ঘটনাটি নিয়ে দুই দলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ অব্যাহত রয়েছে।
ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং খাড়গের বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, মন্তব্যটি অত্যন্ত কষ্টদায়ক। তাঁর মতে, দেশের প্রাচীনতম রাজনৈতিক দলগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত কংগ্রেসের জাতীয় সভাপতির কাছ থেকে এমন বক্তব্য প্রত্যাশিত নয়।
রাজনাথ সিং আরও অভিযোগ করেন, ভুল স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ করার পরিবর্তে কংগ্রেস নেতারা খাড়গের বক্তব্যকে সমর্থন করার চেষ্টা করছেন। তাঁর এই মন্তব্যের মাধ্যমে বিজেপি নেতৃত্ব বিতর্কটিকে রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও দায়িত্বশীলতার প্রশ্ন হিসেবে তুলে ধরছে।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশীও খাড়গের বক্তব্যের সমালোচনা করেন। তিনি কংগ্রেসের নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক অবস্থানের সমালোচনা করে বলেন, এ ধরনের মন্তব্য দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্য ক্ষতিকর।
বিজেপির সমালোচনার জবাবে কর্ণাটকের মন্ত্রী ও খাড়গের ছেলে প্রিয়াঙ্ক খাড়গে বলেন, বিজেপির নেতারা অতীতে নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহের বিভিন্ন বক্তব্যের কথা ভুলে গেছেন। তাঁর বক্তব্য, কংগ্রেসের বিজেপির কাছ থেকে রাজনৈতিক শিষ্টাচারের শিক্ষা নেওয়ার প্রয়োজন নেই।
বিরোধী জোটের শরিক রাষ্ট্রীয় জনতা দলের সংসদ সদস্য মনোজ ঝাও বিতর্কিত মন্তব্যের সমালোচনা করেছেন। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, অতীতে বিজেপির নেতারা যখন সোনিয়া গান্ধী ও মল্লিকার্জুন খাড়গেকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছিলেন, তখন একই ধরনের প্রতিবাদ দেখা যায়নি কেন।
খাড়গের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিজেপি ও কংগ্রেসের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য রাজনৈতিক বিরোধকে আরও তীব্র করেছে। বিজেপি খাড়গের পদত্যাগ ও ক্ষমা দাবি করছে। অন্যদিকে কংগ্রেস ঘটনাটির প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বিজেপির সমালোচনার জবাব দিচ্ছে।
দুই দলের বক্তব্য ও পাল্টা বক্তব্যের মধ্যে বিতর্কটি এখন রাজনৈতিক শিষ্টাচার, ব্যক্তিগত আক্রমণ এবং বিরোধী দলের প্রতি আচরণ নিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে এ ঘটনায় রাজনৈতিক উত্তেজনা কতটা বাড়বে, তা নির্ভর করছে দুই দলের পরবর্তী অবস্থান ও প্রতিক্রিয়ার ওপর।
